বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

একটু সহায়তা পেলেই পরিবার নিয়ে ঘুড়ে দাঁড়াতে পারবে সেন্টু গাজী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ মে, ২০২৫, ৮:৫৬ পিএম
একটু সহায়তা পেলেই পরিবার নিয়ে ঘুড়ে দাঁড়াতে পারবে সেন্টু গাজী
রাজপথে সরব উপস্থিতি রাখা বিএনপির নিবেদিত কর্মী চাঁদপুর শহরের সেন্টু গাজী একটু সহায়তা পেলেই পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুড়ে দাঁড়াতে পারবেন। তিনি জাতীয়তাবাদী বাস্তুহারা কমিটির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
১৭ মে শনিবার রাতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের আর্থিক দৈন্যদশা তুলে ধরেন।
জানা যায়, সেন্টু গাজী(৪০) হচ্ছেন চাঁদপুর শহরের ৮নং ওয়ার্ডের বকুলতলা গ্রামের হাকিম গাজী ও লতুবা বেগমের ছেলে। বর্তমানে স্ত্রীসহ তার চিলেকোঠাময় একটি ঘরের সংসারে গণি স্কুলে পড়ুয়া এক ছেলে এবং মাদ্রাসায় পড়ুয়া এক কন্যা সন্তান রয়েছে। টাকার অভাবে সাংগঠনিক কাজও তিনি অনেকটা ধীর গতিতে চালাচ্ছেন। জেলা বাস্তুহারা কমিটির এই নেতা সেন্টু গাজী বলেন, জিয়াউর রহমানের আদর্শকে লালন করে দীর্ঘদিন যাবৎ সংগঠন করছি। গেলো ১৫/১৬ বছরে কত রকমের যে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছি তা বলে শেষ করা সম্ভব নয়। এখন নতুন বাংলাদেশে একটু স্বস্তিতে বাঁচতে চাই এবং সংগঠনকে এগিয়ে নিতে চাই।
সেন্টু গাজী বলেন, আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে মানুষকে সাবলম্বী করা এবং যাদের বাড়ীঘর নেই তাদের নিয়ে কাজ করে থাকি। আমি প্যাডেল চালিত রিক্সা চালাচ্ছি। এখন খুব অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছি। আমার ছেলে মেয়ের লেখা পড়ার খরছ চালাতে কষ্ট হচ্ছে।
আমার একটা নতুন অটো গাড়ী হলে সংসারটা ভালো চালাতে পারতাম। বেশ কয়েকটি উপজেলার কমিটিও গুছিয়ে রেখে একটি মিটিং করার মতো অবস্থায় না থাকায় সাংগঠনিক কাজও দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। যদি জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাই আমার এই দৈন্যদশার কথা শুনে আমাকে সাবলম্বী করতে একটি অটো বাইকসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দিতে এগিয়ে আসেন তাহলে কৃতজ্ঞ থাকতাম।
একই সাথে প্রশাসনের কাছেও আমাকে আর্থিকসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেয়ার জন্য করজোড়ে অনুরোধ জানাচ্ছি।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।