বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী ক্যাম্পেইনে

মাদকসেবীদের অধিকাংশই তরুণ, নেশায় তারা ন্যায়-অন্যায় ভুলে যায় : ওসি শাহ্ আলম

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ মে, ২০২৫, ১০:৩৭ পিএম
মাদকসেবীদের অধিকাংশই তরুণ, নেশায় তারা ন্যায়-অন্যায় ভুলে যায় : ওসি শাহ্ আলম
ফরিদগঞ্জে মাদক মুক্ত সমাজ বিনির্মাণে লক্ষ্য সচেতন মূলক মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী ক্যাম্পেইনে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ এ মে ২০২৫) বিকেলে উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের রূস্তমপুর পোলের গোড়া এলাকায় সেবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মাদক বিরোধী ক্যাম্পেইনে ও আলোচনা সভায় সেবা ফাউন্ডেশনের সভাপতির ডাঃ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও প্রধান সমন্বয়ক আল-আমিন মারুফের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রাখেন, ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ্ আলম (পিপিএম)।
এ সময় তিনি বলেন, মাদক শব্দটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিরন্তর কান্নার সুর। যদি পরিবারে কেউ একজন মাদকে আসক্ত হয় সে পরিবারের অন্যরা খুবই মানসিক কষ্টের মধ্যে থাকে, চলতে থাকে অবিরাম কান্না। এ কষ্ট যে শুধু মানসিক তা-ও না, এর সঙ্গে যুক্ত হয় সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার বেদনা এবং অর্থনৈতিক যাতনাও। এই যাতনাও দীর্ঘমেয়াদি।
আমাদের দেশে সবসময় যত রকমের অপরাধের ঘটনা ঘটছে তারই একটি বড় অংশ মাদকসংশ্লিষ্ট। মাদক সেবনের অর্থ সংগ্রহ করার জন্য নেশাগ্রস্ত মানুষ যেকোনো কিছুই করতে পারে। এই আসক্তি বর্তমান সময়ের সব আসক্তির মধ্যে অন্যতম এবং অধিক ক্ষতিকর। মাদকের কুফল অত্যন্ত ভয়াবহ, এর ফলে শরীর ও মনের খুব ক্ষতি হয়, অর্থ ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে।
মাদকসেবীদের অধিকাংশই তরুণ, তারা মাদকের আক্রমণে ন্যায়-অন্যায় ভুলে যায়। মাদকে আসক্ত হওয়ার পর হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, এর পরিণামে সন্তানের হাতে বাবা-মায়ের খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং রাহাজানি যেন খুব সাধারণ ঘটনা। সমাজে নেমে আসে চরম অবক্ষয়। এমন ভয়াবহ পরিবেশে বেড়ে তরুণ যখন যুবক হয়ে দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করে তখন তার জীবনে আর শান্তি আসে না। শুরু হয় পারিবারিক কলহ, প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির অসাঞ্জস্যতা, বিয়েবিচ্ছেদ, পরিণামে এই দম্পতির সন্তানদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। তা ছাড়া সব ধরনের মাদকের কুফল হলো অনিদ্রা, অতি উত্তেজনা, মানসিক অবসাদ, বিষণ্নতা, দাম্পত্য কলহ, অর্থের লেনদেন, হত্যা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম। এর একটির প্রভাবই অনেক ভয়াবহ, সবগুলোর প্রভাবে সমাজ কোথায় যেতে পারে তা ভাবার বিষয়। সুতরাং এগিয়ে আসতে হবে এর প্রতিরোধে।
তিনি আরো বলেন, নিয়মিত মাদক গ্রহণের ফলে স্মৃতিভ্রম হতে পারে। হতে পারে মস্তিষ্ক বিকৃতি, হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি ও লিভারের জটিলতা। মাদক সব ক্ষেত্রেই মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর ভয়াবহ পরিণতি থেকে মানবসমাজ বাঁচাতে হবে। এ জন্য এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে, সমাজের সব স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
আমরা বলতে পারি, আজকাল বিভিন্ন ধরনের মাদকের আগ্রাসন নতুন কিছু নয়। প্রচলিত মাদকের সঙ্গে একের পর এক নতুন মাদক যুক্ত হচ্ছে, তাও সস্তা ও সহজলভ্য। তাই এগুলো কোনো না কোনোভাবে চলে আসছে ক্রেতা এবং গ্রহীতার হাতে। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এসবের শিকার হচ্ছে আমাদের অপার সম্ভাবনাময় যুবসমাজ।
সহজ লভ্যতার জন্য আজকাল আমাদের সমাজে মাদক সেবন যেন একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব মাদক এখন শহর থেকে প্রত্যন্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে, এর কারণ হলো হাত বাড়ালেই মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়। মাদকের এই ভয়াবহ আগ্রাসনের কারণে কিশোর-তরুণ থেকে শুরু করে যুবসমাজ অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে আছে, নষ্ট হচ্ছে তাদের শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবন, নষ্ট হচ্ছে পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক সম্প্রীতি। মাদকের প্রভাবে সমাজে যেমন অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি পরিবারে নানা অশান্তি সৃষ্টি হয়ে পরিবারগুলোও ভেঙে যাচ্ছে। ভেঙে যাওয়া পরিবারের সন্তানরা একইভাবে উচ্ছন্নে যাওয়ার পথ খুঁজে নেয়, এ যেন নষ্ট হওয়ার সুসজ্জিত চক্রব্যুহ।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের ফরিদগঞ্জ উপজেলা আমির ও সেবা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মাওলানা ইউনুছ হেলাল, নায়েবে আমির মাওলানা কফিল উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সাংবাদিক সোহেল খান, রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মানিক পাটওয়ারী, রূপসা উত্তর ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামের সভাপতি ও সেবা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা সদস্য জামিরুল ইসলাম প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য আসিক, রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সেবা ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের নের্তৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।