বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে মাদককারবারির ছুরিতে ঝরল সিএনজি চালকের প্রাণ

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০২৫, ৯:৪৯ পিএম
ফরিদগঞ্জে মাদককারবারির ছুরিতে ঝরল সিএনজি চালকের প্রাণ
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক চিহ্নিত মাদককারবারির ছুরিকাঘাতে মো. মোস্তফা (২৭) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের শাশিয়ালী গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত দিদার হোসেনের ছেলে। মোস্তফা একজন সিএনজি অটোরিকশা চালক ছিলেন এবং এক সন্তানের জনক।
বুধবার (১৯ জুন) রাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে ১৬ জুন ফরিদগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন নিহত মোস্তফার ভাই মো. আলাউদ্দিন।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের বরাতে জানা গেছে, গত ১২ জুন (বৃহস্পতিবার) রাতে চিহ্নিত মাদককারবারি সোহেল ও তার সহযোগীরা মোস্তফাকে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। প্রথমে তাঁকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই মো. আলাউদ্দিন বলেন, “ঘটনার রাতে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে সোহেল গংরা আমাদের ঘর থেকে ভাইকে ডেকে নেয়। পরে তাঁকে মারধর ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে, যেটি কিডনিতে লেগেছিল। আমরা তাঁকে স্থানীয়দের সহায়তায় হাসপাতালে নিয়ে যাই। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। আমরা ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।”
জানা গেছে, মোস্তফা ও অভিযুক্ত সোহেল একই এলাকার বাসিন্দা। সোহেলের ভাই ফয়সাল স্থানীয় এক ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে ৪ হাজার ৬০০ টাকা নিয়েছিলেন কিছু পণ্য কেনার জন্য। কিন্তু সেই টাকা আত্মসাৎ করেন ফয়সাল। ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মোস্তফার স্বজন হওয়ায়, ফয়সালের কাছে ওই টাকা চাইলে বিরোধ শুরু হয়। এই বিরোধ থেকেই পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সোহেল গংরা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। একাধিকবার তারা মাদকসহ গ্রেপ্তারও হয়েছে। অনেকে মনে করেন, মোস্তফা মাদকের বিরোধিতা করায় পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম বলেন, “নিহতের ভাই আলাউদ্দিনের অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকে আসামি করে মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একজন এখনও পলাতক রয়েছে। ভিকটিম মারা যাওয়ায় মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হচ্ছে।”

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।