বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জের মাদকসম্রাট স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোবারক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ জুন, ২০২৫, ৬:৫০ পিএম
ফরিদগঞ্জের মাদকসম্রাট স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোবারক গ্রেপ্তার
চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১০ নং গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের পূর্ব হাসা গ্রামের মাদক সম্রাট মোবারক পাটোয়ারী (৪৭)কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে ডিবি পুলিশ।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন যাবত চাঁদপুর সদর ও ফরিদগঞ্জের মাদকের বড় বড় চালান পাচার করার সাথে জড়িত ছিল এই মাদক ব্যবসায়ী মোবারক পাটোয়ারী।
এছাড়া ও সে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১০ নং গোবিন্দপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে দলের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম, জমি দখল, মাদক ব্যবসা সহ এলাকার মানুষকে নানান ভাবে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে তৎকালীন সময়ে গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুরের ডিবির এসআই মাজাহার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গোপান সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (২৩ জুন) রাতে খবর পেয়ে গোয়ালভাওর বাজার এলাকা থেকে মোবারক পাটোয়ারীকে আটক করতে সক্ষম হয়।
ডিবি পুলিশের হাতে আটক হওয়া মোবারক পাটোয়ারী উত্তর হাসা গ্রামের মৃত জব্বর পাটোয়ারী ছেলে।
চাঁদপুরের বাস স্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের উপর হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার মামলায় মোবারক পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের পাঠায় চাঁদপুর সদর সডেল থানা পুলিশ।
আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।
ফরিদগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোবারক পাটোয়ারী গ্রেফতার হওয়ায় এলাকার মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।
এদিকে মোবারক পাটোয়ারীকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য অনেক নেতাকর্মী ও শীর্ষ মাদক কারবারিরা তদবির করেও ব্যর্থ হয় বলে জানা যায়।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।