বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়কে সীমাহীন দুর্ভোগ

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ৫ জুলাই, ২০২৫, ৮:৪১ পিএম
ফরিদগঞ্জে দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়কে সীমাহীন দুর্ভোগ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শাশিয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শাহী বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়কের বেহাল দশা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন এলাকাবাসী। বৃষ্টি হলেই সড়কজুড়ে হাঁটুসমান কাদা জমে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমে কোনো রকমে চলাচল করা গেলেও বর্ষাকালে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করাটাই হয়ে ওঠে দুঃসাধ্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কটিই শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ। বছরের বেশিরভাগ সময়ই ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয় সবাইকে। দীর্ঘদিনেও সড়কটি পাকা না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দক্ষিণ শাশিয়ালী, পশ্চিম জয়শ্রী এবং আশপাশের গ্রামের মানুষ।

সড়কটির অবস্থান সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, দক্ষিণ শাশিয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ থেকে শুরু হয়ে এটি শাহী বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত। রাস্তাটি ভেঙে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, রোগী ও পথচারীদের প্রতিনিয়ত মাড়াতে হচ্ছে কাদা ও পানি।

গ্রামের ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান কাদা জমে যায়। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়কে যাতায়াত করেন। কিন্তু এত দুর্ভোগের পরেও কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না।’

Model Hospital

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমরা ঠিকমতো হাটে-বাজারে যেতে পারি না। কৃষিপণ্য সময়মতো বিক্রি করতে পারি না। ছেলে-মেয়েরা জুতা-স্যান্ডেল হাতে নিয়ে স্কুলে যায়। সরকার আসে-যায়, আমাদের কষ্ট কিন্তু থেকেই যায়।’

সিএনজি চালক কাজল বলেন, ‘প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটে। অন্তঃসত্ত্বা রোগী হলে তো বিপদ আরও বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।’

ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন বলেন, ‘বর্ষাকালে এ সড়কে কোনো রকম যানবাহনই চলতে চায় না। এম্বুলেন্স, ভ্যান, মোটরসাইকেল কোনোটাই ঢুকতে পারে না। ফলে রোগী নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছানো হয়ে যায় এক দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা।’

কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় এই সড়কে চলতে খুব কষ্ট হয়। মন খারাপ হয়ে যায়।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত উত্তম চন্দ্র বলেন, ‘সড়কটি পাকা হলে শুধু শিক্ষার্থীরা নয়, পুরো এলাকাবাসী উপকৃত হবেন।’

ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবরার আহাম্মেদ বলেন, ‘সড়কটি প্রকল্প আকারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেই দরপত্র আহ্বান করা হবে।’

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।