বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরের রাসেল গাজীর বিরুদ্ধে প্রবাসীদের সর্বস্ব কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫, ৮:৪৯ পিএম
চাঁদপুরের রাসেল গাজীর বিরুদ্ধে প্রবাসীদের সর্বস্ব কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিরুদ্ধে ভয়ংকর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন চাঁদপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর পৌরসভার ষোল ঘর বিডি রোডের শাহজাহান গাজীর ছেলে মো. রাসেল গাজী নামের এক ব্যক্তি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি মাদক, নারী এবং ভয়ভীতি দেখানোর কৌশল ব্যবহার করে একাধিক প্রবাসীকে অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে ধ্বংস করে দিয়েছেন।
একের পর এক অভিযোগে উঠে এসেছে, সৌদি আরবে থাকা এই ব্যক্তি একটি সংঘবদ্ধ কৌশলে নিরীহ প্রবাসীদের ফাঁদে ফেলে ভিডিও, মিথ্যা মামলা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ভয় দেখিয়ে কোটি টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রবাসীরা কেউ কেউ নির্যাতনের শিকার হয়ে জেল খেটেছেন, আবার কেউ নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরে এসেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, রাসেল গাজী সৌদি আরবে অবস্থানকালীন সময় মাদক ও নারীর মাধ্যমে প্রবাসীদের ‘ফাঁদে’ ফেলতেন। অনেক সময় স্থানীয় নারীদের দিয়ে অন্তরঙ্গ ভিডিও তৈরি করে, আবার মাদকসহ সাজানো পরিস্থিতি তৈরি করে ওই ভিডিও ও তথ্য ব্যবহার করে প্রবাসীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ দাবি করতেন।
যদি কেউ অর্থ দিতে অস্বীকার করতেন, তাহলে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সৌদি পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হতো। এতে কেউ কেউ মাসের পর মাস হাজতবাস করেছেন, এমনকি নিজ দেশে ফিরে এসেও হয়েছেন নিঃস্ব।
এই প্রতারণার শিকার প্রবাসীদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ আব্দুল সালাম (৫১), কুমিল্লা সদর দক্ষিণ। মোঃ লিটন, চাঁদপুরের আলগীবাজার। কামাল হোসেন, ভোলা-চাঁদপুর অঞ্চল। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, “রাসেল গাজী প্রথমে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন, পরে ফাঁদ তৈরি করে আমাদের জিম্মি করেন। টাকা না দিলে মারধর করে, আবার পুলিশের হাতে তুলে দেন। কেউ কেউ সবকিছু হারিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।
চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানায় রাসেল গাজীর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জালিয়াতি, জাল দলিল ও প্রতারণা (ধারা ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১ ইত্যাদি)। এসব মামলায় তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে এবং উচ্চ আদালতের কোনো জামিন বা স্থগিতাদেশ নেই।
ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এক নথিতে বলা হয়েছে, তিনি পলাতক এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে রাসেল গাজীর মতো প্রতারকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তারা বলছেন, “সৌদি আরবের কড়া আইনকে অস্ত্র বানিয়ে সাধারণ প্রবাসীদের সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে এই চক্র। তাদের থামাতে না পারলে আরও অনেক প্রবাসী ধ্বংস হয়ে যাবে।”

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।