শাহরাস্তিতে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতের খুঁটি অক্ষত রেখেই পার্কিং নির্মাণ!
শাহরাস্তি পৌরসভার দোয়াভাঙ্গা এলাকায় বিদ্যুতের উচ্চ ভোল্টেজের সঞ্চালিত লাইনের খুঁটি অক্ষত রেখেই নির্মাণ করা হয়েছে গণপরিবহনের জন্য পার্কিং স্পেস। এতে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে যাতায়াতকারী যাত্রীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ওই ঘটনায় আমজনতার আশঙ্কা, যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খুঁটিগুলো দ্রুত অপসারণ করে নিরাপদ পার্কিং নির্মাণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। গণপরিবহনের যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বর্তমানে এই সড়কে যানবাহনের চাপ ক্রমশ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিটি স্ট্যান্ডেই লেগে থাকে সুদীর্ঘ যানজট। সড়ক বিভাগের বহু জায়গা ইতোমধ্যে চলে গেছে প্রভাবশালীদের দখলে। ফলে চরম জনদুর্ভোগে পড়ছেন রাস্তায় বেরহওয়া মানুষজন। ওই হিসেবে দোয়াভাঙ্গা, উয়ারুক, কালিয়াপাড়া, বানিয়াচৌ, কাকৈরতলা বাজারসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে যানজট এখন নিত্যদিনের চিত্র।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় গত বছরের ডিসেম্বর মাসে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন সাড়াঁশি অভিযান পরিচালনা করে। এতে দোয়াভাঙ্গা এলাকায় সড়ক বিভাগের রাস্তা ও দু’পাশে প্রায় ১৮০ ফুট জায়গা দখলের কবল থেকে উদ্ধার করা হয়,যার ধারাবাহিকতায় বর্তমান উপজেলা প্রশাসনও এ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

অতিসম্প্রতি শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনের ইউএনও নিগার সুলতানা ও এসিল্যান্ড নিরুপম মজুমদার অভিযান চালিয়ে প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ দোকানঘর উচ্ছেদ করে।

এরপর চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ( সওজ) বিভাগ সম্প্রতি উদ্যোগ নেয় দোয়াভাঙ্গা এলাকার দুই পাশে পার্কিং স্পেস স্থাপনের। ওই হিসেবে ব্রিক সলিং দিয়ে রাস্তার দক্ষিণ পাশের টার্মিনাল স্পেস তৈরি কাজ শেষ হলেও উত্তর পাশের কাজ এখনও চলমান রয়েছে। এটি স্থাপনের উদ্দেশ্য ছিল, দ্রুতগামী গাড়িকে চলাচলের সুযোগ দিয়ে, পরিবহনের গাড়ি পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে নিরাপদে যাত্রী নামানোর জন্য। কিন্তু বিপত্তি ঠেকেছে, ওই সড়কের মাথার উপর দিয়ে চলে যাওয়া বিদ্যুৎ সঞ্চালনের হাইভোল্টেজের কেবল লাইনের খুঁটি। যেটি অক্ষত রেখেই দুই পাশের পার্কিংয়ের কাজ নির্মান করা হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, “আমরা এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছি। এইভাবে বিদ্যুৎ লাইনের নিচে পার্কিং নির্মাণ করা খুবই বিপজ্জনক। এদিকটি বিবেচনায় প্রশাসনের নজর দেওয়া আবশ্যক। গণপরিবহন শ্রমিক ইব্রাহিম খলিল বলেন, এই এলাকায় প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করে, উপরন্তু বাস ও অটোরিকশা পার্কিংএ দাঁড়িয়ে থাকে। নির্মাণাধীন পার্কিং এলাকায় বড় কোন গাড়ির ধাক্কায় যদি কোনোভাবে তার ছিঁড়ে পড়ে, তাহলে ব্যাপক প্রাণহানি বা বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ ( সওজ) বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চঃদাঃ), হাজীগঞ্জ ওয়াছিউদ্দিন আহমেদ জানান, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মৌখিকভাবে অবহিত করেছি। সহসাই পত্র দিয়ে জানানো হবে।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি – ১ এর জোনাল অফিসের ডিজিএম নিজাম উদ্দিন সামস্ বলেন, আমি এ কর্মস্থলে নতুন, আসার পর এ সংক্রান্ত কোন নথি আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা চাইলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনে উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
গণমাধ্যমকর্মী মাহবুব হাছান বাবলু জানান, ” বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ ও জনগুরুত্বপূর্ণ । টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রনয়ন করা উচিত।





