বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ঝগড়ার জেরে মা-মেয়ের বিষপান, মেয়ের মৃত্যু, মা হাসপাতালে

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫, ১০:২৭ পিএম
ঝগড়ার জেরে মা-মেয়ের বিষপান, মেয়ের মৃত্যু, মা হাসপাতালে

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের দক্ষিণ সাহেবগঞ্জ এলাকায় মা-মেয়ের একসঙ্গে কীটনাশক পানের ঘটনা ঘটেছে। এতে মেয়ে জান্নাত (১৮) মারা গেছেন এবং মা পারুল বেগম (৪৫) চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন।

সোমবার (১৫ জুলাই ২০২৫) ভোরে উপজেলার রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের রাড়ী বাড়িতে, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সার্জেন্ট মো. জয়নাল আবেদীনের বসতঘরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভোর আনুমানিক ৬টার কিছু আগে পারিবারিক কলহের জেরে মা পারুল বেগম ও তার মেয়ে জান্নাত উভয়ে ঘরে রাখা কীটনাশক পান করেন।

স্থানীয়রা জানান, জান্নাত কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। ঝগড়ার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা এমন সিদ্ধান্ত নেন।

Model Hospital

পরিবারের লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দুজনকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখানে চিকিৎসক জান্নাতকে মৃত ঘোষণা করেন এবং মা পারুল বেগম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ আলম জানান, প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক কলহজনিত আত্মহত্যার প্রচেষ্টা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।