ভবনের ভিতরে গড়ে তোলা অবৈধ ট্যাংকিই কাল হল সুমনের জীবনে
চাঁদপুরে সেফটিক ট্যাংকির গ্যাসে সুমনের মৃত্যু
চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের দেলোয়ার পাটোয়ারির মার্কেটে সেফটিক ট্যাংকি পরিষ্কার করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যু হয়েছে এক সুইপার সুমনের (৩৫)।

স্থানীয়রা বলছেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবনের ভিতর বসানো ট্যাংকি এবং যথাযথ গ্যাস নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবই এই মৃত্যুর কারণ।

নিহত সুমন পেশায় একজন সুইপার। প্রতিদিনের মতোই কাজ করতে গিয়ে শুক্রবার রাতে তিনি নিখোঁজ হন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর তার নিথর দেহ উদ্ধার করে।

মার্কেটটির মালিক দেলোয়ার পাটোয়ারি পেশায় একজন মাদ্রাসা শিক্ষক। পাশাপাশি তিনি নির্মাণসামগ্রী ও কীটনাশকের ব্যবসাও চালান। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, নিয়ম উপেক্ষা করে ভবনের ভেতরেই তিনি সেফটিক ট্যাংকি নির্মাণ করেন, যা একেবারেই বেআইনি এবং ঝুঁকিপূর্ণ।

সেদিন রাতে দেলোয়ারের নির্দেশেই সুমন সেই ট্যাংকির ভিতর নামেন। সেখানে জমে থাকা মিথেন গ্যাসে মুহূর্তেই তার দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন।
ঘটনার পর দেলোয়ার, সুমনের স্ত্রী এবং তার এক সহকর্মীকে পুলিশ থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ভবনের ভিতরে সেফটিক ট্যাংকি বসানো এবং কোনও প্রকার ভেন্টিলেশন না থাকায় গ্যাস জমে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
একজন সুইপারের জীবনের চেয়ে সস্তা যেন একটি সেফটিক ট্যাংকির ঢাকনা।
নিরাপত্তা বিধি না মানা, নিয়ম উপেক্ষা করে গড়ে তোলা নির্মাণ সব মিলিয়ে সুমনের মৃত্যুর দায় কে নেবে?
স্থানীয়দের প্রশ্ন, “এই দায় কি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি এটা একপ্রকার হত্যা?”
সুমনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
চাঁদপুরের আরেকটি প্রাণ চলে গেল গাফিলতির গ্যাসে। প্রশ্ন থাকল আর কত প্রাণ গেলে জাগবে সংশ্লিষ্টরা?





