সাজাপ্রাপ্ত ৫ মামলার আসামি
হাজীগঞ্জে ৮২ লাখ টাকার প্রতারণায় শাহ আলম গ্রেপ্তার
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা ৮২ লক্ষ টাকার প্রতারণা ও চেক ডিজঅনার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোঃ শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মকিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত মুনসুর আহমদের ছেলে।

গত রবিবার (২০ জুলাই) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাজীগঞ্জ থানার এ,এস,আই (নিরস্ত্র) মোঃ মোস্তফা মাজেদ বিন রশিদ সঙ্গীয় ফোর্স
পৌর ৪নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ এলাকায় অভিযান পরিচালনা নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন।

শাহ আলমের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার আইনের (N.I. Act 138) আওতায় মোট ৫টি মামলা রয়েছে। আদালত প্রতিটি মামলায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৭২ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

মামলার বিবরনে জানা যায়, সিআর নং-৫৪৮/২৩ (হাজীঃ), এসসি নং-৯৮২/২৩, ধারা-এনআইএ্যাক্ট ১৩৮ সংক্রান্তে ১১,০০,০০০/- (এগারো লক্ষ) টাকা অর্থ দন্ড এবং ০১ (এক) বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড,সিআর নং-৫৪৫/২৩ (হাজীঃ), এসসি নং-৯৪৮/২৩, ধারা-এনআইএ্যাক্ট ১৩৮ সংক্রান্তে ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা অর্থ দন্ড এবং ০১ (এক) বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড। সিআর নং-৫৪৭/২৩ (হাজীঃ), এসসি নং-৯৪৭/২৩, ধারা-এনআইএ্যাক্ট ১৩৮ সংক্রান্তে ৩০,০০,০০০/- (ত্রিশ লক্ষ) টাকা অর্থ দন্ড এবং ০১ (এক) বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড। সিআর নং-৫৪৯/২৩ (হাজীঃ), এসসি নং-৯৮০/২৩, ধারা-এনআইএ্যাক্ট ১৩৮ সংক্রান্তে ১১,০০,০০০/- (এগারো লক্ষ) টাকা অর্থ দন্ড এবং ০১ (এক) বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড। সিআর নং-৫৪৬/২৩ (হাজীঃ), এসসি নং-৯৮৩/২৩, ধারা-এনআইএ্যাক্ট ১৩৮ সংক্রান্তে ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা অর্থ দন্ড এবং ০১ (এক) বছর বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহ আলম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যবসায়িক লেনদেনের আড়ালে বহু ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা করতেন। অনেকেই তার কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা পেয়েও পরবর্তীতে চেক ফেরত পাওয়ার মাধ্যমে প্রতারিত হন।
এছাড়াও একাধিক ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন- শাহ আলম খুব বিশ্বাসযোগ্য ভান করে আমাদের সঙ্গে বড় বড় আর্থিক চুক্তিতে যায়। কিন্তু সময়মতো টাকা ফেরত না দিয়ে আমাদের নামে চেক ইস্যু করে, যেগুলো ব্যাংকে ডিজঅনার হয়।”
স্থানীয়রা আরও বলেন-তার বিরুদ্ধে এর আগেও মৌখিক ও লিখিতভাবে একাধিক অভিযোগ থানায় জমা পড়ে, তবে আদালতের পর্যায়ে এসে বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়।
শাহ আলমের গ্রেপ্তারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা। এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা অনেক দিন ধরে আইনি লড়াই করছি। আজ পুলিশের এমন পদক্ষেপে আমরা সাহস পাচ্ছি যে, আইনের ওপর এখনও ভরসা রাখা যায়।”
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। জনগণের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা এবং আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করাই আমাদের অঙ্গীকার।”
তিনি আরও বলেন, “যারা প্রতারণা করে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিপন্ন করছে, তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না।”গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ শাহ আলমকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।







