বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

জীবনে-মরণে একসঙ্গে তিন বন্ধু

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫, ১০:৩৯ পিএম
জীবনে-মরণে একসঙ্গে তিন বন্ধু

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বাদ জোহর তিন শিশুকে একসঙ্গে দাফন করা হয় পারিবারিক কবরস্থানে। মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে একই বংশের তিন শিশুকে হারায় দিয়াবাড়ির তারারটেক মসজিদপাড়ার তিন পরিবার।

মাইলস্টোন স্কুল থেকে কয়েক মিনিট দূরত্বের এ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এক উঠোনে পাশাপাশি তিনটি নতুন কবর। এই তিন শিশু একই বংশের। সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। তবে তাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়—তারা বন্ধু।

এক উঠোনে একসঙ্গে বেড়ে ওঠা এই তিন শিশু পড়তো মাইলস্টোন স্কুলের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে। কিন্তু সোমবার স্কুলটিতে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় শৈশবেই থেমে গেলো তাদের জীবন।

গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে মো. আশিকুর রহমান উমাইরকে (১০) মৃত ঘোষণা করা হয় সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে। মরদেহ বাড়িতে এনে দাফনের প্রস্তুতির মধ্যেই (দিনগত রাত ৩টা ৪০ মিনিটে) খবর আসে মাহিদ হাসান আরিয়ানও (১১) নেই। আর মঙ্গলবার সকালেই নিশ্চিত হওয়া যায়, বাপ্পি সরকারও (১০) আর শ্বাস নিচ্ছে না।

Model Hospital

সরেজমিনে ওই পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, শোকে মুহ্যমান পুরো এলাকা। কবরগুলোর ঠিক উল্টো পাশের ভবনটিই তারারটেক মসজিদ। সেটার বারান্দায় রাখা লাশ বহনকারী খাটিয়া। তার আশপাশে কয়েকজন চাপা স্বরে কথা বলছিলেন। দু-একজন মিডিয়াকর্মীর আসা-যাওয়াও দেখা গেলো।

সেখানেই কথা হয় মাহিদ হাসান আরিয়ানের চাচাতো ভাই রাসেলের সঙ্গে। রাসেল বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও তিনজন একসঙ্গে স্কুলে গিয়েছিল। কিন্তু ফেরা হয়নি। একের পর এক লাশ হয়ে ফিরে এসেছে আমাদের বাচ্চারা।’

‘তারা একসঙ্গেই খেলতো। একসঙ্গেই তাদের জানাজা হলো, একসঙ্গেই কবর হলো,’ বলেন রাসেল।

তিনি বলেন, ‘স্কুল শেষ হওয়ার পরে তারা কোচিং করতো। তারপর বাসায় আসতো। স্কুল আর কোচিংয়ের এক ফাঁকে এদের একজনের মা গিয়ে সবাইকে খাবার দিয়ে এসেছিল। দেড়টা বাজলে পরিবারের একজন গিয়ে তাদের নিয়েও আসার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ঘটে যায় সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।’

রাসেল জানান, তিন শিশুর বাবা-মা কেউ কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।

এছাড়া মো. জুনায়েদ (১০) নামে যে শিশুটি মারা গেছে সেও তার মামাতো ভাই বলে জানান রাসেল। সেও তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।

রাসেল জানান, নিহত শিশুদের মধ্যে আশিকুর রহমান উমাইর কুতুবের ছেলে। মাইলস্টোন স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো। একই শ্রেণিতে পড়তো কুতুবের চাচা মো. সেলিমের ছেলে মাহমুদুল ইসলাম আরিয়ান। আর কুতুবের ফুপাতো ভাই মো. শাহীন সরকারের ছেলে মো. বাপ্পি সরকার পড়তো তৃতীয় শ্রেণিতে।

সেদিনের বর্ণনা দিয়ে রাসেল বলেন, ‘আমি বাড়িতেই ছিলাম। হঠাৎ বিকট আওয়াজ শুনে দৌড়িয়ে বের হয়ে গিয়ে দেখি উমাইর আর বাপ্পি স্কুলের পাশেই মাঠে পড়ে আছে। সেনাবাহিনী তাদের নিয়ে যাচ্ছে।’

আরিয়ানসহ তিনজনকে প্রথমে উত্তরার লুবানা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে নেওয়া হয় গুলশান ইউনাইটেড হাসপাতালে। সেখানেই মারা যায় উমাইর। আর বাপ্পিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।

রাসেল বলেন, ‘আমরা আরিয়ানের মরদেহ নিয়ে বাসায় আসি। তার এক ফুফু চীনে থাকেন। সিদ্ধান্ত হয় তিনি ফিরলে দাফন হবে। সেভাবেই রাখা হয়। কিন্তু রাত ৩টা ৪০ মিনিটে আরেক চাচাতো ভাই ফোন দিয়ে বলে আমাদের সেলিম চাচার ছেলে আরিয়ান মারা গেছে। তার মরদেহ বাড়িতে না আনতেই খবর আসে বাপ্পিও আর নেই।’

এর আগে নিহত বাপ্পির বাবা মোহাম্মদ আবু শাহিন গণমাধ্যমকে জানান, জোহরের নামাজ শেষ করে বাপ্পি, আরিয়ান ও উমাইরকে আনতে স্কুলে যাচ্ছিলেন তিনি। বিকট শব্দ শুনে দৌড়ে স্কুলে পৌঁছান।

আবু শাহিন বলেন, গিয়ে দেখি আমার ছেলের ক্লাসরুমের পাশের রুমটাতেই বিমানটি ঢুকে গেছে। বিপদ বুঝতে পারি। তবু আমার ছেলে, ভাতিজা ও চাচাতো ভাইকে খুঁজতে থাকি। একসময় পেয়েও যাই সবাইকে। তবে আমার ছেলে ও ভাতিজাকে জীবিত পেলেও চাচাতো ভাই আরিয়ানকে পেয়ে বুঝতে পারি সে আর নেই।’

এক প্রতিবেশী জানান, জ্বরে ভোগার কারণে এক মাস স্কুলে যায়নি আরিয়ান। ঠিক একমাস পর যেদিন স্কুলে গেলো, সেদিনই বিমান দুর্ঘটনায় সে প্রাণ হারালো।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।