বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কারাগারে কোরআন শরীফ এক খতম দিয়েছি, বললেন পলক

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫, ১:১৬ পিএম
কারাগারে কোরআন শরীফ এক খতম দিয়েছি, বললেন পলক

জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকায় রাসেল গাজী নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার মামলায় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার এ আবেদন মঞ্জুর করেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ।

ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন এলাকায় রাসেল গাজী হত্যা মামলায় এ দিন পলককে আদালতে উপস্থিত করে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন। আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গ্রেপ্তার দেখানো আদেশ দেন বিচারক।

এ দিন আদালতে শুনানি শুরুর আগে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখির সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় আইনজীবী কারাগারে পলকের কোনো কিছু প্রয়োজন আছে কিনা জিজ্ঞাসা করেন। কোনো বই লাগবে কিনা জিজ্ঞাসা করেন তার আইনজীবী। এখন কিভাবে সময় কাটাচ্ছেন কারাগারে এই প্রশ্নের উত্তরে পলক বলেন, ‘কারাগারে নিয়মিত কোরআন শরীফ পড়ছি। কোরআন শরীফ এক খতম দিয়েছি ‘

এ সময় পলকের কোমরে ব্যাকপেইনরোধক বেল্ট দেখা যায়। তখন শারীরিক সুস্থতার বিষয়ে জানতে চান আইনজীবী। পলক বলেন, ‘আছি কোনরকম।’

Model Hospital

আদালত শেষে পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, ‘তিনি কারাগারে কোরআন শরীফ পড়ছেন। কারাগারেই এক খতম দিয়েছেন। কোমরে ব্যাকপেইন আছে।’

মামলার সূত্রে জানা যায়, জুলাই আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ৫ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে ঢাকার আশুলিয়া থানার গাজীরচট এলাকায় আন্দোলন করছিলেন মো. রাসেল গাজী (২৭)। এ সময় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের ছোড়া গুলিতে আহত হন তিনি। পরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহত রাসেল গাজী আশুলিয়ার গাজীরচট মধ্যপাড়া এলাকার বেলায়েত গাজী ও সেলিনা বেগম দম্পতির ছেলে।

এর আগে গত বছরের ১৫ আগস্ট পলককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর থেকে অসংখ্য হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ড ভোগ করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক আছেন।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।