রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

মতলবে সম্পত্তিগত বিরোধে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আম গাছের চারা কাটার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৫, ১০:০৪ পিএম
মতলবে সম্পত্তিগত বিরোধে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আম গাছের চারা কাটার অভিযোগ
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আম গাছের চারা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই-২০২৫) রাতের আঁধারে উপজেলার নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ বারগাঁও এলাকার হাজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ক্রয় সূত্রে জায়গার মালিক মো. শাহআলম হাজী জানান, দীর্ঘদিন ধরে জুবায়ের আহমেদ, ওসমান হাজী ও মিলন গংদের সাথে আমাদের সম্পত্তি নিয়ে মামলা মোকাদ্দমা চলে আসছে। গত ২২ জুলাই উক্ত সম্পত্তিতে চাঁদপুর আদালত থেকে স্থিতাবস্থা জারি করেন। এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে ২৯ জুলাই রাতের আঁধারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আমার রোপণকৃত বিভিন্নজাতের ৪টি আমের চারা কেটে ফেলে প্রতিপক্ষ জুবায়ের আহমেদ গংরা।
ভুক্তভোগী শাহ আলম হাজী আরও জানান, এওয়াজ সূত্রে স্থানীয় আবুল কাশেম গংদের কাছ থেকে বিরোধকৃত জায়গার মালিক হন বাচ্চু মিয়া। পরবর্তীতে ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ সালে ৮৮২৪ ও ৮৮৪৪ দাগে মোট ২৬ শতাংশ ভূমির মধ্যে আপোষ বণ্টনমতে ৪ শতাংশের মধ্যে ২ শতাংশ জায়গা সাব কাবলা দলিল মূলে আমাদের কাছে বিক্রি করেন বাচ্চু মিয়া। খরিদ সূত্রে মালিক হওয়ার পর আমি ওই সম্পত্তিতে ঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন দখল করে আছি। গত ৩ বছর ধরে উক্ত জায়গা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি করেন একই বাড়ির জুবায়ের আহমেদ, ওসমান হাজী ও মিলন হাজী গংরা। তার পর থেকে এই জায়গা নিয়ে প্রতিপক্ষরা একাধিক মামলাও করেছিল। কিন্তু ওই মামলায় আমাদের পক্ষেই রায় দেয় আদালত।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জুবায়ের আহমেদ জানান, শাহ আলম হাজি যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। যেদিন এই গাছ কাটার ঘটনা ঘটেছে। সেদিন আমি কুমিল্লায় ছিলাম। তাছাড়া শাহ আলম হাজি যে জায়গা ক্রয় করেছেন তা সম্পূর্ণ ভুয়া। শাহ আলম হাজি নিজেই গাছের চারা কেটে আমাদের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।