শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে ৫০ হাজার টাকার জন্য যুবককে জবাই করে হত্যা, পিতা ও ভাই মুমূর্ষু

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৫০ পিএম
ফরিদগঞ্জে ৫০ হাজার টাকার জন্য যুবককে জবাই করে হত্যা, পিতা ও ভাই মুমূর্ষু
মাত্র ৫০ হাজার টাকার জন্য আপন চাচা ও চাচাতো ভাইয়ে হাতে প্রাণ গেল প্রবাস ফেরত বাবুর (২২)। রক্তে ভেসে গেল পারিবারিক আঙিনা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গলা কেটে মুহূর্তেই নিথর হয়ে পড়লেন তিনি।
মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বাবা রওশন আলী (৫৫) ও ছোট ভাই আরমান (২০)। এ নির্মম ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক পিতা, পুত্র ও পুত্রবধূকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৪নং সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের বড়গাঁও গ্রামের গাজী বাড়িতে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত বাবু, তার পিতা রওশন আলী ও ছোট ভাই আরমানকে ডেকে নেন রওশনের ভাই হাসান (৫০)। অভিযোগ, বাবুকে বিদেশ পাঠাতে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন হাসান, সেই টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে হাসান, তার ছেলে শাকিল (২৫) এবং পুত্রবধূ সুমাইয়া (২০) মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান।
প্রথমে ছুরিকাঘাতে বাবুর পেটে ছোরা ঢুকে যায়, পরে তাকে জবাই করা হয়। পুত্রবধূ সুমাইয়া অস্ত্র এগিয়ে দেন, আর হাসান ও শাকিল এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই বাবুর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত রওশন আলী ও আরমানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তারা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
বাবুর শ্বশুর কামাল ও স্থানীয়রা জানান, হাসানের টাকা পাওয়ার দাবি মিথ্যা। বিষয়টি নিয়ে রোববার বিকেলে সাহার বাজারে সালিস বসে এবং সোমবার বিকেলে আবার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ঘটল এ হত্যাকাণ্ড।
হত্যাকাণ্ডের পর হাছান ঘরের ভেতরে লুকিয়ে ছিল, স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে এবং পাশের একটি ঘরে শাকিলের স্ত্রী সুমাইয়া পালিয়ে থাকলে তাকেও আটক করে। এরমধ্যে শাকিল বাড়ি থেকে পালিয়ে মুন্সির হাটে গেলে কিছু লোকজন তাকে চিনতে পারে এরপর তাকে আটক করে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসলে উৎসুক জনতা ঘণধোলাই দেয়, পুলিশ গণধোলাই এর হাত থেকে রক্ষা করে। ঘটনা সামাল দিতে ফরিদগঞ্জে অবস্থানরত সেনাবাহিনীর সহায়তায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
নৃশংস হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েক হাজার মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়। খবর পেয়ে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ফরিদগঞ্জ – হাজীগঞ্জ) সার্কেল মুকুর চাকমা এবং ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে টাকা-পয়সার লেনদেনের বিষয়টি জানা গেছে। সালিস বৈঠকের আগেই এই ঘটনা ঘটে। আটক তিনজনকে থানায় আনা হয়েছে, আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital