শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে অবৈধ ড্রেজার দৌরাত্ম্য : ফসলি জমি ও সরকারি খাল ধ্বংসে প্রশাসনের নীরবতা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫, ৬:১৪ পিএম
শাহরাস্তিতে অবৈধ ড্রেজার দৌরাত্ম্য : ফসলি জমি ও সরকারি খাল ধ্বংসে প্রশাসনের নীরবতা
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের নোয়াপাড়া এলাকায় চার বছর ধরে সরকারি খাল ও তার পাড় কেটে অবৈধভাবে মাটি তুলছে ড্রেজার ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন ভোরের আগে থেকেই ড্রেজারের গর্জন শোনা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের দুই পাশের সবুজ ফসলি জমি ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্ছে, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়ে জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
অভিযোগপত্রে বাদী মো. আমির হোসেন উল্লেখ করেছেন, বিবাদী মো. রাশেদুল ইসলাম সরকারি খালের লাগোয়া একটি জমি কিনে সেখানে ‘আধার’ তৈরি করে ড্রেজার বসান। সেখান থেকে খাল ও পাড়ের মাটি কেটে ট্রাকে বিক্রি করা হয়। কাজগুলো বেশিরভাগ সময় রাতের আঁধারে হয়, যাতে প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে যাওয়া যায়।
স্থানীয় কৃষক আবদুল মালেক বলেন, “আগে খালের পানি বর্ষায় জমি সেচের কাজে লাগত। এখন খাল গভীর হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় অতিরিক্ত পানি এসে জমি ডুবে যায়, শুকনো মৌসুমে আবার পানিশূন্য হয়ে পড়ে। দুই মৌসুমেই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে স্থানীয়দের দাবি, তদন্তের কথা শুধু সময়ক্ষেপণের অজুহাত, আর এ সময়ের মধ্যেই ড্রেজারের পাইপ ও ট্রাক অব্যাহতভাবে চলছে।
স্থানীয়দের মতে, অবৈধ মাটি ব্যবসায় প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশ রয়েছে। প্রতি ট্রাক মাটি বিক্রি হয় ১,৮০০ থেকে ২,৫০০ টাকায়। দিনে ২০–২৫ ট্রাক মাটি ওঠে, যা মাসে কয়েক লাখ টাকার অবৈধ বাণিজ্যে রূপ নেয়। এর একটি টাকাও সরকারি রাজস্বে জমা হয় না।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, “খাল ও নদীর তলদেশে এভাবে হস্তক্ষেপ করলে বর্ষায় অস্বাভাবিক বন্যা, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট ও স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেবে। দীর্ঘমেয়াদে মাটির উর্বরতা হারাবে, জীববৈচিত্র্যও বিলীন হবে।”
অবৈধ ড্রেজার জব্দ, খাল পুনঃখনন ও ক্ষতিগ্রস্ত জমির ক্ষতিপূরণ—এই তিন দফা দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দাবি না মানলে তারা নিজেরাই ড্রেজার অপসারণে নামবেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ডা. আব্দুর রাজ্জাকের প্রত্যক্ষ মদদেই এসব অবৈধ কাজ প্রকাশ্য গোপনের মতো তার ইউনিয়নে চলছে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital