বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা ভঙ্গ করে বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৫, ৩:০৬ পিএম
চাঁদপুরে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা ভঙ্গ করে বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ

চাঁদপুর শহরের কোড়ালিয়া রোডে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা (স্টে অর্ডার) অমান্য করে তিন পরিবারের বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন কালু হাওলাদার, শাহাদাত হাওলাদার, সালেহ আহম্মেদ ও তার ছেলে হাসিব, শেখ হাবিবুর রহমানের ছেলে দুলাল, গুয়াখোলার আলমগীর, আউয়ালসহ অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জন সন্ত্রাসী।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, মৃত হাজি আব্দুল মান্নান ঢালির বাড়ি, প্রবাসী আলহাজ হারুন মিয়ার বাড়ি এবং মেজর আকাশের বাড়িসহ ১৩ শতক জমির উপর থাকা স্থাপনা কোনো নোটিশ ছাড়াই ভেক্যু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় হাইকোর্টের আদেশের কপি দেখালেও হামলাকারীরা তা উপেক্ষা করে।

ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি বাড়ির আসবাবপত্র, চাল-ডাল, কাপড়, নগদ টাকা, প্রায় ৪ ভরি সোনার গয়না, বৈদ্যুতিক পণ্য এবং তিনটি দোকানের মালামাল লুটে নেয় হামলাকারীরা। এমনকি বাড়ি ধ্বংসের সময় বেরিয়ে আসা রডগুলোও নিয়ে যায় তারা।

Model Hospital

অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যু কালু হাওলাদার, শাহাদাত হাওলাদার, সালেহ আহম্মেদ, তার ছেলে হাসিব, শেখ হাবিবুর রহমানের ছেলে দুলাল, গুয়াখোলার আলমগীর, আঊয়ালসহ অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জন সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নেয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, মৃত হাজি আব্দুল মান্নান ঢালির বাড়ি, প্রবাসী আলহাজ্ব হারুন মিয়ার বসতবাড়ি এবং মেজর আকাশের বাড়ি উচ্ছেদের নামে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশের কপি দেখানো হলেও অভিযুক্তরা তা উপেক্ষা করে। উচ্চ আদালতের আদেশ গোপন করে নিম্ন আদালতের ভিন্ন আদেশ দেখিয়ে কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই প্রায় ১৩ শতক জমির স্থাপনা ধ্বংস করা হয়।

অভিযুক্তরা নগদ টাকা, চার ভরি সোনার গয়না, চাল–ডাল, কাপড়, বৈদ্যুতিক পণ্য, দোকানের মালামাল, এমনকি বাড়ি ভেঙে বের হওয়া রডও লুটে নেয়। বসতঘরের আসবাব, ঘটিবাটি থেকে শুরু করে সব মালামাল নিয়ে যায়।

চার দশকের বেশি সময় ধরে ওই জমিতে বসবাসকারী পাঁচটি পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, অস্ত্রধারী ৫০–৬০ জন হামলাকারী নারী, শিশু, বৃদ্ধ—কাউকেই রেহাই দেয়নি। প্রাণভয়ে পরিবারগুলো পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। দুই দিন ধরে চলা এই তাণ্ডবের সময় দেখার কেউ ছিল না বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে পুড়ে যাওয়া বসতঘরের ভগ্নাবশেষ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে একটি নিরীহ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গভীর রাতে ঘটা এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা সূত্রপাত কোথায় থেকে হয়েছে, তা কেউ বলতে না পারায় পুরো এলাকায় গভীর রহস্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৭শে অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের পশ্চিম শ্রীকালিয়া গ্রামের জবর আলি বেপারী বাড়ির প্রবাসী মো. মাসুদ আলমের বাড়িতে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান পাটোয়ারী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতের খাবার খেয়ে সবাই নিজ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এর মাত্র কিছুক্ষণ পর, আনুমানিক রাত ১টার দিকে হঠাৎ করে বসতঘরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তাঁদের আর্তচিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন এবং দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই মুহূর্তের মধ্যে ঘরের ভেতর থাকা আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, পরিধেয় বস্ত্রসহ সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘরে অগ্নিকাণ্ড ঘটার মতো রান্নার চুল্লি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কেট বা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থের কোনো সংযোগ বা উপস্থিতি ছিল না। ফলে এত বড় অগ্নিকাণ্ড কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ এটি পরিকল্পিত নাশকতা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।