বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলবে ঘুষ ছাড়া ফাইল ধরে না ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সৈয়দ আহাম্মদ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫, ৯:১৯ পিএম
মতলবে ঘুষ ছাড়া ফাইল ধরে না ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সৈয়দ আহাম্মদ
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে মিউটেশনে (নামজারি) আট থেকে দশ হাজার, অন্যান্য কাজে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ ছাড়া সেবা মেলে না সেখানে। কলাকান্দা ইউনিয়ন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তহশিলদার সৈয়দ আহাম্মদ এর বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শুধু কলাকান্দা নয়, এমন চিত্র পুরো মতলব উত্তরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসজুড়ে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘুষ দিলে কাজ হয়, না দিলে কাজ হয় না। জমির নামজারি, খতিয়ান দেখানো, তদন্ত প্রতিবেদন, খাজনা আদায় প্রতিটি ধাপে ধাপে দিতে হয় ঘুষ।
সোমবার  (১৮ আগষ্ট) সকাল ১১ টার দিকে আমিনুল ইসলাম আল আমিন নামে এক সেবা গ্রহীতা জমির মিউটেশনের জন্য কলাকান্দা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আসলে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সৈয়দ আহাম্মদ টাকা দাবি করে, তিনি অতিরিক্ত টাকা না দিতে অসম্মতি প্রকাশ করলে মিউটেশনের ফাইল জানালা দিয়ে ফেলে দিয়ে, ফাইলের উপর পানি ডেলে দেয়। এবং তাকেও দোতালা থেকে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে কলাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মেহেদী হাসানের মাধ্যমে সমাযোতা হয়।
কলাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাইদুর রহমান শিবলু বলেন, ভূমি অফিসে অতিরিক্ত অর্থ এক কথায় ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল নড়াচড়া করে না। এমনকি এসিল্যান্ড অফিসেও যায় না। কমপক্ষে ৬-৭ হাজার টাকা দিলে জমির মিউটেশন কাজ হয়।  ইউনিয়নবাসী যেই উনার (সৈয়দ আহাম্মদের) কাছে কাজে গেছেন তিনিই চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
হানিরপাড় গ্রামের আমান উল্লাহ, দশানী গ্রামের আল-আমীন বেপারী জানান, আমাদের জমির মিউটেশন করতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৭হাজার টাকা নিয়েছে ভূমি কর্মকর্তা।
কলাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মেহেদী হাসান বলেন, আজকে আমিনুল ইসলাম আল আমিনের সাথে ভূমি কর্মকর্তা যে খারাপ আচরণ করেছেন তা আমি মিমাংসা করে দিয়েছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সেবাপ্রত্যাশী বলেন, বেশ কিছুদিন আগে বাবা মারা গেছেন।
বাবার নামে রেকর্ড সম্পত্তি নাম জারি করার জন্য গিয়ে ছিলাম কলাকান্দা ভূমি অফিসে। ওই অফিসে বেশ কয়েকবার যাওয়ার পর কোনো কাজ হয়নি। এক পর্যায়ে তহশিলদার বললেন অফিস খরচ না দিলে কীভাবে ফরোয়ার্ডিং হবে? বাধ্য হয়ে ৭ হাজার টাকা দিয়ে আমার কাজটা করতে হয়েছে।
এ বিষয়ে মতলব সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় অনলাইন সার্ভিস চালু হওয়ার ফলে অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতি কমেছে, তবে অনেকেই এই বিষয়টি ভালোভাবে না বুঝতে পারার কারণে দালালের খপ্পরে পড়েন। তখন তাদের অতিরিক্ত অর্থ নষ্ট হয়। মিডিলম্যানের কাছে না গিয়ে সরাসরি এসিল্যান্ড অফিসে আসুন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ঘটনার সততা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।