বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ভাইরাল চাঁদপুরের মিজানের সম্পত্তি ফিরে পেতে মানববন্ধন

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫, ৮:২৩ পিএম
ভাইরাল চাঁদপুরের মিজানের সম্পত্তি ফিরে পেতে মানববন্ধন

ঢাকায় ফুটপাতে “গরিবের বুফে” চালু করে ভাইরাল হওয়া মিজান এখন আরও বড় এক সমস্যার মুখোমুখি। নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে না পেরে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন।

মিজানের বাড়ি চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার গন্ডামারা গ্রামে। তার দাবি, বাবার রেখে যাওয়া ১৯ কাঠা জমি দীর্ঘদিন ধরে তার আপন চাচাতো ভাইসহ কিছু প্রভাবশালী স্থানীয় ব্যক্তি দখল করে রেখেছে। জমি ফেরত চাওয়ায় তিনি একাধিকবার হুমকি-ধমকির শিকার হয়েছেন।

মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “আমার নিজের জমি ফেরত পেতে আমি অনেক জায়গায় গিয়েছি, কিন্তু কেউ সাহায্য করেনি। যারা জমি দখল করেছে, তারা বারবার আমাকে ভয়ভীতি দেখায়। আমি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, যেন আমি আমার বাবার সম্পত্তি ফেরত পাই।”

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ক্লিন চাঁদপুরের স্বপ্নদ্রষ্টা ও চাঁদপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ। তিনি মিজানকে বিনামূল্যে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
পরে মিজান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন, যেখানে তিনি দ্রুত দখলমুক্তির ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

Model Hospital

প্রায় ১০ মাস আগে ঋণ করে ঢাকায় এসে আগারগাঁও ফুটপাতে হোটেল বসান মিজান। নাম দেন “গরিবের বুফে”। গরুর মাংস দিয়ে আনলিমিটেড ভাত-তরকারি ১০০ টাকায়, মুরগি ৮০ টাকায়, আর ডিম ৬০ টাকায় বিক্রি শুরু করেন। গ্রাহকেরা নিজেরাই বিল মেটাতেন পাশের পটে টাকা রেখে।

মানুষের উদার সাড়া পেলেও সমস্যায় পড়েন তিনি। আশপাশের ব্যবসায়ীরা কম দামে খাবার বিক্রিকে প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখে শত্রুতা শুরু করে। অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে লোকসান করানোর চেষ্টা করে। পাশাপাশি সরকারি জায়গায় দোকান বসানোয় কয়েকবার প্রশাসনের হাতেও উচ্ছেদের শিকার হন।

এর আগে মিজান ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করতেন। যেখানে অন্যরা ১০০ টাকায় বিক্রি করতো, তিনি দিতেন ৭০ টাকায়। অনেকেই টাকা না দিয়ে সবজি নিয়ে গেলেও তিনি ফিরিয়ে দিতেন না। এই সরলতা ও উদারতার সুযোগ নিয়ে প্রতিযোগীরা তার ব্যবসা ভেঙে দেয়। তবুও দমে যাননি মিজান। মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা নিয়েই নতুনভাবে আবার দাঁড়িয়েছেন। তবে এখন তিনি মনে করেন, নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পাওয়া তার জীবনের জন্য সবচেয়ে জরুরি।

মানববন্ধনে উপস্থিত স্থানীয় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, একজন সৎ মানুষকে তার আপনজনই জমি থেকে বঞ্চিত করেছে, যা দুঃখজনক। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।