বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মুন্সিরহাট বাজারের সড়কে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দেড় শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ 

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫, ১০:৪৩ পিএম
মুন্সিরহাট বাজারের সড়কে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দেড় শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ 

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মুন্সিরহাট বাজার এলাকায় (মতলব-বাবুরহাট সড়ক সংলগ্ন) জেলা পরিষদ এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দেড় শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জেলা প্রশাসনের নির্দেশে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অভিযানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রশাসন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং জেলা পরিষদ। অভিযানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে  উপজেলার মুন্সিরহাট বাজারের সড়কের পশ্চিম পার্শ্বে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দেড় শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং জেলা পরিষদের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে দোকান ঘরগুলো নির্মাণ করে একটি প্রভাবশালী মহল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিয়ে আসছিল।

জেলার মাসিক সভায় এ বিষয়টি আলোচনায় আসলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন অবৈধভাবে গড়ে ওঠা মুন্সিরহাট বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি নোটিশের মাধ্যমে এক সপ্তাহের সময় বেধে দিয়ে ব্যবসায়ীদের অবগত ও দোকানপাট সরিয়ে নেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। আর এক সপ্তাহের শেষ দিন ছিল গতকাল (২৫ আগস্ট-২০২৫) সোমবার। কিন্তু এ সময়ে ব্যবসায়ীরা মালামাল সরিয়ে নিলেও দোকানপাট সরিয়ে নেয়নি। তাই জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক বুলড্রেজার দিয়ে স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।

Model Hospital

এদিকে উচ্ছেদ অভিযানের সময় আবদুল হাকিম (৫২) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, ওনার বাজারে তিনটি দোকান ছিল। দোকান সরিয়ে নিতে হবে না, ওনি ম্যানেজ করবেন। এমন কথা বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।

অভিযান চলাকালে চা দোকানদার নুরুল ইসলাম বলেন, চা বিক্রি করে যা আয় হতো তা দিয়ে সংসার চালাতাম। হঠাৎ করে দোকান উচ্ছেদ করায় চোখে মুখে শুধু অন্ধকার দেখছি। সরকার যেন আমাদের কর্মসংস্থানের একটি ব্যবস্থা করে দেন।

ফার্মেসীর মালিক বশির উল্লাহ, স্টিলের আলমারি দোকান মালিক কামাল মিয়াজী, ভাই ভাই স্টোরের মালিক আব্দুর রহমানসহ আরো ১৫/২০ জন দোকান মালিক বলেন, আমরা জেলা পরিষদে টাকা জমা দিয়ে দোকান ঘর উঠিয়ে ব্যবসা করে আসছি দীর্ঘদিন যাবৎ। জেলা পরিষদ থেকে কয়েকবার নোটিশ দিয়েছেন দোকান সরিয়ে নেয়ার জন্য। অন্যথায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। একাধিকবার নোটিশ দেয়ার পরও উচ্ছেদ অভিযান না হওয়ায় এবারের বিষয়টিও তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। মাত্র এক সপ্তাহের নোটিশে সকল দোকান উচ্ছেদ করা হবে এটা বেশীরভাগ দোকান মালিক ভাবতে পারেনি। তাই ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট আমাদের আকুল আবেদন, আমাদের যেন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।

অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম জাকারিয়া, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাখাওয়াত জামিল সৈকত, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন বলেন, মুন্সিরহাট বাজারে পেন্নাই সড়কের পশ্চিম পাশে খালের উপর জেলা পরিষদের জায়গায় অবৈধভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছিল স্থানীয় লোকজন। বিভিন্ন সময় এ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য নোটিশ করা হলেও সেগুলো সরিয়ে নেয়নি। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাসিক সভায় সিদ্ধান্ত ও নোটিশ মোতাবেক আজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে ভূসম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।