সোহরাওয়ার্দীতে জশনে জুলুসে চাঁদপুর থেকে হাজার হাজার মানুষের যোগদান
ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৫০০তম পূর্তি ও পবিত্র জশনে জুলুস ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আন্তর্জাতিক শান্তি মহা সমাবেশে চাঁদপুর জেলা থেকে হাজার হাজার মঈনিয়া সাইফিয়া- মাইজভান্ডারী ভক্তবৃন্দ ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির নেতা কর্মীরা গাড়ি নিয়ে সমাবেশ উপস্থিত হয়েছেন ।

১২ ই রবিউল আউয়াল ৬ সেপ্টেম্বর শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাত থেকে সারা দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নেমে আসে প্রত্যেক অলি গলি ও কানায় কানায় ভরে যায় মাঠ। জসনে জুলুসের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে, আওলাদে রাসুল (সাঃ), নবী বংশের ৩১ তম নূরানী আওলাদ শাহ্জাদায়ে গাউছুল আযম শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী মাইজভান্ডারী (মাঃজিঃআ)।

আরো উপস্থিত ছিলেন,, শাহ্জাদায়ে গাউছুল আযম শাহ্সূফী সৈয়দ মেহবুব এ মইনুদ্দীন আল্-হাসানী মাইজভান্ডারী ও শাহ্জাদায়ে গাউছুল আযম মইনীয়া যুব ফোরামের সম্মানিত সভাপতি সৈয়দ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন আল্-হাসানী মাইজভান্ডারী।

সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী বলেছেন, ১৯৭১ সালে অনেক রক্তের মাধ্যমে স্বাধীনতা পেয়েছি। ২৪-এর একটা গণআন্দোলন সংগঠিত হয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এই আন্দোলন হলেও আমরা সেই সফলতা দুঃখজনকভাবে দেখতে পাচ্ছি না। অনেক বাধাবিপত্তির মধ্যে আজকের এই জশনে জুলুস পালন করছি।

শনিবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে জশনে জুলুসের র্যালি শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী বলেন, আমরা অন্য ধর্মকে সম্মান করে নিজের ধর্মের সম্মানকে বৃদ্ধি করতে পারি। কিন্তু আমরা আজকে দেখছি হিংস্রতা, উগ্রতা, দয়ামায়াহীনতা এমনভাবে বেড়ে গেছে যে, সমাজ থেকে মানবতা আজ উঠে গেছে। আমরা এক মাস ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করি যেন মানুষের মাঝে দয়া, মায়া এহসান প্রতিষ্ঠিত হয়। জ্বালাও, পোড়াও, ধ্বংসাত্মক আন্দোলনের মাধ্যমে বিশ্বে আমাদের খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। ১৯৭১ সালে অনেক রক্তের মাধ্যমে স্বাধীনতা পেয়েছি। ২৪-এর আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সুফলতা দুঃখজনকভাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি না। শহীদ, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তের জন্য দোয়া করছি। আজকে দেশে নারকীয় কর্মকাণ্ড করে, ভয়ের সন্ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছে। এভাবে একটা দেশ চলতে পারে না।
তিনি আরো বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করছে, যারা বিদাত বিদাত বলছে তাদের আমরা বলি আসুন আমরা সবাই একত্রিত হয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করি। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্য করছি। আল্লাহ যেন আমাদের কবুল করেন।
কবি ও দার্শনিক ফরহাদ মজহার বলেন, জুলাই আন্দোলনের পরে আমরা যেরকম দেশ প্রত্যাশা করেছিলাম কিন্তু সেরকম দেশ হয় নাই । রাসূলের যে রাজনীতি, সেই রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করাই গণঅভ্যুত্থান। রাসূল মক্কা বিজয় করেছেন, অহংকারী, হিংসুক ও জুলুমের বিরুদ্ধে। আমরা সেই জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়াব, যেই জুলুম আল্লাহর রাসূল এই সময়ে থাকলে তিনি মেনে নিতেন না।
মাশুকে মইনুদ্দীন আহমেদ আল মাইজভান্ডারী বলেন, বর্তমানে সমাজে যে বর্বরতা চলছে, কিন্তু নবীর উম্মত হলে এরকম বর্বরতা করতে পারে না। আমরা যদি এই উম্মত হয়ে থাকলে এই ধরনের বর্বরতা করতে পারি না। আমাদের ওপর যখনই পরীক্ষা আসবে তখনই বেশি বেশি দুরুদ শরীফ পড়ব। আল্লাহর রাসূলের জীবনের আলো আমাদের জীবনে দান করুন।
সুন্নি ইসলামি বক্তা গিয়াসউদ্দিন তাহেরি বলেন, আমরা সুন্নিরা জুলাই আন্দোলনের পর খানকা, রাজপথ, অফিস কোথাও নিরাপদ নয়। গত এক বছরে ৬৯টি খানকা ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। তিনি প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি প্রধান উপদেষ্টা হয়েছেন, আপনি খানকায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিন।
তিনি আরো বলেন, সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী যেখানে যে অবস্থায় ডাক দিবেন, আপনারা সেই ডাকে সাড়া দিতে রাজি আছেন? আন্দোলনের ডাক দিলে আপনারা রাজপথে নামতে প্রস্তুত আছেন তো? তিনি ডাক দিলে বাংলাদেশের সাড়ে বারো হাজার খানকার সকল আশেকান, মুরীদান রাজপথে নেমে আসতে হবে।
মাইজভান্ডারী দরবারের বক্তা আ ক ম মাসুদ বলেন, আমরা বহুদিন ধৈর্য ধরেছি। আর ধৈর্য ধরার সময় নেই, এখন প্রতিরোধ করার সময়। এখন আঘাত আসলে পাল্টা আঘাত করতে হবে। কোনো আঘাতই আর বিনা প্রতিরোধে ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
ড. সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারীর মোনাজাতে ফিলিস্তিনসহ বিশ্ব শান্তির প্রতিষ্ঠার দোয়ার মাধ্যমে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী জশনে জুলুসের সমাবেশ শেষ হয়।
মাওলানা বাকি বিল্লাহ আল আজহারীর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য দেন আব্দুল্লাহ আল মারুফ, আ ন ম মাসুদ হোসাইন আল কাদেরী, গোলাম মহিউদ্দিন লতিফী, কাজী মো. মোহসীন চৌধুরী প্রমুখ।
১৫০০তম পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী মহাসমারোহ- বংশানুক্রমে প্রিয় নবী করিম এর ৩১তম পবিত্র বংশধর, আধ্যাত্মিক বিশ্ববিদ্যালয় খ্যাত মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সুফিজ এর সম্মানিত প্রেসিডেন্ট, হযরত শাহসূফী শায়খ সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভান্ডারী (মা.জি.আ.)’র সদারতে জশনে জুলুস ও আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত ঈদে মিলাদুন্নবী সাঃ জুশনে জুলুসে উদযাপন সফল করার লক্ষ্যে চাঁদপুর থেকে হাজার হাজার ভক্ত বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন খলিফা মোহাম্মদ মনির আহসান খানের নেতৃত্বে একটি গাড়ি ছেড়ে যান ওয়ারলেস এলাকা থেকে চাঁদপুর ঢালির রঘাট আঞ্জুমানে রহমানিয়া মঈনিয়া*সাইফিয়া খানকা শরীফ থেকে খলিফা মাওলানা কোভিদ হোসেন ও সাংবাদিক মোহাম্মদ এরশাদ খান, মোঃ আলমগীর হোসেন পাটোয়ারী ও মোহাম্মদ আবুল হাসেম গাজী ও মোঃ সিরাজ ঢালী, মোহাম্মদ রিয়াদ ঢালী, মোহাম্মদ মারফত আলী ও মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, এর নেতৃত্বে দুইটি গাড়ি ছেড়ে যায় বাবুরহাট থেকে মোহাম্মদ আলী জিন্না নেতৃত্বে একটি গাড়ি ও গাছ তলা থেকে মোহাম্মদ লিটন এর নেতৃত্বে একটি গাড়ি শাহাজালাল মার্কেট থেকে মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী ও বাসা নির নেতৃত্বে একটি গাড়ি ছেড়ে যায়। শুধু তাই না মতলব দক্ষিণ উপজেলা মতলব উত্তর উপজেলা কচুয়া উপজেলা হাজিগঞ্জ উপজেলা ফরিদগঞ্জ উপজেলা থেকে গাড়ি নিয়ে সমাবেশ উপস্থিত হয়েছেন।





