বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

বিএনপি নেতার বিরেুদ্ধে আ’লীগ কর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:৩৫ এম
বিএনপি নেতার বিরেুদ্ধে আ’লীগ কর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ
চাঁদপুর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলাকারীদেরকে ছত্রছায়ায় রাখার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
জানা যায়, উপজেলার আশিকাটি ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ও ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার পদপ্রার্থী মোঃ রুবেল প্রধানীয়া এবং তার ছোট ভাই নিষিদ্ধ সংগঠন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোঃ পাবেল প্রধানীয়া ও ডিস ব্যবসায়ী রহমান প্রধানীয়াকে পুনর্বাসন করার পায়তারা করছেন একই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ মোবারক মিজি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি নেতা মোবারক মিজির ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন হচ্ছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের বিভিন্ন পদে থাকা নেতাকর্মীরা এখনো আশিকাটি ইউনিয়নে চলাফেরা করছে।
বিগত ইউপি নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে এক নিরীহ প্রতিবন্ধী মোঃ শাখাওয়াত কাজী কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে যুবলীগ নেতা মোঃ রুবেল প্রধানীয়া। তিনি কিভাবে এখনো ব্যবসা করে যাচ্ছে? নিশ্চই আমাদের দলের লোকেদের হাত রয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরদের কে আশ্রয়- প্রশ্রয় দেয় এবং তাদেরকে শেল্টার দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে।
এর আগে উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং, মাদক সহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও গত বছরের ১৮ অক্টোবর চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার ৮৪ নম্বর আসামী রুবেল প্রধানীয়া।
বিএনপি নেতা মোবারক মিজি একসময় দলের সাথে সম্পৃক্ততার কথা কখনো স্বীকার করতেন না, অথচ এখন আওয়ামী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে আশ্রয় দিয়ে আসছেন। নিষিদ্ধ সংগঠনের এসব নেতারা এখনো মানুষকে ভয়ভীতি ও হুমকি ধামকি দিয়ে থাকেন বলে জানা যায়।
অভিযোগকারীরা আরো বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এর নির্দেশনা মোতাবেক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরকে বিএনপির কেউ আশ্রয় দিতে পারবেন না। তাদের সাথে কোন সম্পর্ক রাখবেন না। তাদের স্থান এদেশে থাকতে দেয়া হবেনা। তাহলে আশিকাটি ইউনিয়ন বিএনপির এ নেতা কিভাবে রুবেল প্রধানীয়া ও পাবেল প্রধানীয়া সহ অন্যান্য নেতাদের সাথে সখ্যতা করেন।
এসব ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা বলছে, আওয়ামী লীগ নেতাদের পুনর্বাসন ঠেকাতে চাঁদপুর জেলা ও সদর উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীলদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এবং বিএনপির একনিষ্ঠ স্থানীয় নেতাকর্মীদের ত্যাগের কথা চিন্তা করে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে এবং আওয়ামী লীগের ঐসব কর্মীদের এলাকা ছাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে মোবারক মিজির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি রুবেল প্রধানীয়া ও পাবেল প্রধানীয়াকে তেমন চিনি না। আর আমি বিএনপির একজন পোস্টধারী নেতা হয়ে আওয়ামী লীগের কর্মীদেরকে কেন আশ্রয় প্রশ্রয় দিবো। প্রয়োজনে আপনারা আমার এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন। আমি আমার কাজ নিয়ে থাকি, ওদের সাথে আমার কোন সখ্যতা হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অবাস্তব।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।