বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রান্তিক মানুষের আস্থার নাম সরাইলকান্দি কমিউনিটি ক্লিনিক

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:০৭ পিএম
প্রান্তিক মানুষের আস্থার নাম সরাইলকান্দি কমিউনিটি ক্লিনিক
কচুয়ার প্রত্যন্ত গ্রাম সরাইলকান্দি। চারদিকে সবুজ মাঠ, খোলা প্রকৃতি সেই মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট একটি ভবন, যার নাম সরাইলকান্দি কমিউনিটি ক্লিনিক। গ্রামের মানুষদের কাছে এটাই ভরসার জায়গা, সান্ত্বনার আশ্রয়। কারণ, এখান থেকেই মিলছে তাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, সঠিক পরামর্শ আর নতুন করে বাঁচার আশা।
প্রতিদিন সকাল ৯টা বাজতেই দরজায় কড়া নাড়ে কোনো না কোনো রোগী। গর্ভবতী মায়েরা আসেন ওজন মাপতে, রক্তচাপ কিংবা ব্লাড সুগার পরীক্ষা করতে। শুধু তাই নয়, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর যত্ন নিয়ে এখানে দেওয়া হয় পরামর্শ। “আমরা এখানে এলে শুধু ওষুধ পাই না, পাই ভরসাও। স্বাস্থ্যকর্মীরা আমাদের মা বোনের মতো যত্ন নিয়ে কথা শোনেন” বলছিলেন এক গর্ভবতী মা।
প্রতি মাসে একবার ক্লিনিক প্রাঙ্গণে বসে কিশোর-কিশোরীদের সেমিনার। বয়ঃসন্ধিকালের কিশোর কিশোরীদের শারীরিক পরিবর্তিত সময়ে   স্বাস্থ্য পরিচর্যা সমন্ধে পরামর্শ প্রদান করা হয়।  এই আয়োজন তাদের কাছে যেন বন্ধুর মতো পরামর্শদাতা।
এ ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার বাধন বসু। দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে চাকরি স্থানান্তরজনিত জটিলতায় বেতন পাচ্ছেন না, তবুও প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নিয়মিত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
“মানুষ আমার কাছে আসে, তাদের ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। যতটুকু পারি সাহায্য করি” বলছিলেন তিনি শান্ত হাসি মুখে। রোগীরা বলেন, “উনি আমাদের ভরসা। বিনা পয়সায়, আন্তরিকভাবে সেবা দেন এমন মানুষ খুব কমই আছে।”
সেবার পাশাপাশি রয়েছে সীমাবদ্ধতাও। ক্লিনিক ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, যে কারণে ভবনটি এখন কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে। তবুও সীমিত সম্পদ নিয়েই এখানে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা চলছে, চলছে সেবা কার্যক্রম।
সরাইলকান্দি কমিউনিটি ক্লিনিক আজ প্রান্তিক মানুষের আস্থার নাম। এখানে হয়তো বড় কোনো চিকিৎসা হয় না, হয়তো সীমাবদ্ধতা অনেক, কিন্তু বিনামূল্যে পরামর্শ, ঔষধ বিতরণ আর সচেতনতার আলো ছড়িয়ে মানুষকে সুস্থ জীবনের পথে এগিয়ে দিচ্ছে এই ছোট্ট ক্লিনিক।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।