বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে দুর্ঘটনার ৭ বছরেও টাকার অভাবে পায়ের রিং খুলতে পারেনি মেধাবী ছাত্র দীপ্ত

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:৩১ পিএম
শাহরাস্তিতে দুর্ঘটনার ৭ বছরেও টাকার অভাবে পায়ের রিং খুলতে পারেনি মেধাবী ছাত্র দীপ্ত
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এক অসহায় পরিবারে জন্ম নেয়া মেধাবী ছাত্র দীপ্ত চন্দ্র দাস। সড়ক দুর্ঘটনায় তার একটি পা হারানোর ঝুঁকিতে আছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। ২২ বছর বয়সী এ তরুণ উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের কুলশী ধোপা বাড়ির শ্যামল চন্দ্র দাসের একমাত্র পুত্র সন্তান।
তিনি দুর্ঘটনায় ভাঙ্গা পা নিয়েও দিয়েছেন এসএসসি পরীক্ষা। নিজের ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে টামটা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে অর্জন করেছেন ভালো ফলাফলও। তার এমন কৃতিত্বে খুশি এলাকার লোকজন। কিন্তু ভাগ্যের এমন ভেড়াঝালে ঘুড়েনি জীবন চাকা। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর দীপ্ত কেবল শারীরিকভাবে পঙ্গুত্ববরণই করছেন না, তার পরিবারের উপর নেমে আসে তীব্র আর্থিক সংকট। দুর্ঘটনায় তার চিকিৎসা ব্যয় এতটাই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে যে, তার পরিবার ঋণগ্রস্ত, নিঃস্ব কিংবা পথে বসতে বাধ্য হচ্ছে।
পারিবারিক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দীপ্ত চন্দ্র দাস গত ২০১৮ সালের শেষের দিকে রামগঞ্জ থেকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের জিয়ানগর এলাকায় সিএনজি মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন।
তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ২৫০ শয্যা চাঁদপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দীপ্তকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করেন দায়িত্বরত চিকিৎসক। দীপ্তকে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা পঙ্গু হাসপাতালে গেলে সেখানে ইমারজেন্সি এই চিকিৎসা হবেনা বলে বাহিরের এক দালালের পরামর্শে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করান।
চিকিৎসাকালীন এই সময়ে এক লক্ষ ২১ হাজার টাকা শুধু সিট ভাড়া দিয়েছেন বলে জানান দীপ্ত চন্দ্র দাসের মা জোছনা রানী দাস।
তার মা এ প্রতিবেদককে জানান, আমার ছেলে খুবই মেধাবী একজন ছাত্র ছিলেন। আরো আট দশটা সন্তানের মতো আমার ছেলেও খুব সুন্দরভাবে চলাচল করতো। গত সাত বছর আগের এমন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার ডান পা ভেঙ্গেচুরে এখন হারানোর পথে। তৎকালীন এলাকাবাসীর সহযোগীতা আর নিজের বসতভিটা সহ অন্যান্য সম্পতি বিক্রি করে আমার ছেলের চিকিৎসা করাই। তার পায়ে রিং স্থাপন করে ২ বছর পর খুলে নেয়ার কথা বলেন ডাক্তার। কিন্তু আমাদের আর্থিক অস্বচ্ছতার কারনে আর পায়ের রিং না খোলায় পায়ের মাংস পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
অপারেশনের মাধ্যমে তার এই রিং খোলা সহ অন্যান্য খরচ লাগবে প্রায় আড়াই লাখ টাকা থেকে ৩ লক্ষাধিক টাকার মতো। এই টাকার ম্যানেজ করতে না পাড়ায় আমার ছেলে এখন ঘরবন্দী হয়ে জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
অশ্রুসিক্ত নয়নে দীপ্তের মা আরো বলেন, আমার ছেলের দৈনন্দিন ঔষধ খরচ সহ সংসারের খরচ বহনে আমার দিনমজুর সহজ সরল স্বামীর রোজগার যেন কিছুই না। তাই আমি নিজেও অন্যত্র গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এখন যে অন্যের ভিটায় বসবাস করে আসছি, তারা যদি আমাদের তাড়িয়ে দেয় তাহলে আমরা রাস্তায় যাওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। তাই আমার ছেলেকে সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দিতে সমাজের বৃত্তবান মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতা কামনা করছি। ধর্ণাঢ্য ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতা পেলে আমার ছেলে দীপ্ত উন্নত চিকিৎসা নিয়ে বাঁচতে পারবে হাসিখুশি। ফিরে পাবে নতুন জীবন। সহপাঠীদের সাথে যেতে পারবে কলেজে।
এ বিষয়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সহযোগিতা চেয়ে দীপ্ত চন্দ্র দাস বলেন, আমাকে আপনারা একটি নতুন জীবন দান করেন। আমি চাই সবার মতো আমিও স্বাভাবিক জীবন উপভোগ করি৷ কলেজে ভর্তি হয়ে পূণরায় পড়াশোনা শুরু করে আমার পরিবার ও সমাজের মুখ উজ্জ্বল করতে পারি। প্রিয় পাঠক- দীপ্ত চন্দ্র দাসের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তার ব্যবহৃত ০১৮২০-৯৩৫৩১২ এই নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। সেই সাথে উক্ত প্রতিবেদকের ০১৮৩০-৮৮৫০০০ এই নম্বরেও যোগাযোগ করে আরো তথ্য পেতে পারেন।
এছাড়াও দীপ্তের পাশে থেকে কাজ করা সামাজিক সংগঠন প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা, শাহরাস্তি শাখার নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়। তাদের ০১৬৮৩-৮৮৭৫৯০ এই নম্বরেও যোগাযোগ করা যাবে। সাহায্য পাঠানোর মাধ্যম- দীপ্ত চন্দ্র দাস, একাউন্ট নম্বর: ২২০৪১৮৭৮৬০০০১, সিটি এজেন্ট ব্যাংক, রাউটিং নম্বর: ২২৫২৭২৬৮৪। এছাড়াও তার ০১৮৪৯-৫০৮৭২৬ এই বিকাশ নম্বরেও সাহায্য পাঠানো যাবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital