বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব দক্ষিণে সিঁধেল চুরির মহামারী; এক মাসে ২০ ঘরে হানা, আতঙ্কে গ্রামবাসী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:৩১ পিএম
মতলব দক্ষিণে সিঁধেল চুরির মহামারী; এক মাসে ২০ ঘরে হানা, আতঙ্কে গ্রামবাসী

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে সিঁধেল চুরির মহামারী দেখা দিয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে ২০ বসতঘরে দুর্ধর্ষ সিঁধ কেটে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে মতলব পৌরসভার নবকলস, নলুয়া ও মোবারকদী গ্রামের অন্তত ১০টি বাড়িতে সংঘবদ্ধ চোরের দল সনাতন পদ্ধতিতে সুরঙ্গ কেটে ঢুকে লুটে নিয়েছে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ কয়েক লক্ষাধিক টাকার মালামাল। একই সপ্তাহে বৃহস্পতিবারই বহরী ও নলুয়া গ্রামেও একই কায়দায় চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় পুরো এলাকা এখন আতঙ্কের গ্রাসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের টহল ও নজরদারি না থাকায় চোরদের দাপট বেড়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, চোররা ‘সিঁধকাঠি’ নামের শাবলসদৃশ একটি অস্ত্র ব্যবহার করে মাটি খুঁড়ে সুরঙ্গ তৈরি করে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে। নবকলস গ্রামের সুশীল বলেন, “আমার ঘরের দুই জায়গায় সুরঙ্গ করে ঢুকে মোবাইল ফোন আর কাপড়চোপড় নিয়ে গেছে। এমন ঘটনা বহু বছর ধরে দেখিনি।”

মোবারকদী গ্রামের লোকমান গাজী, আবুল হাসেম প্রধানীয়া, জয়দল গাজী ও মাস্টার বাড়ির খালেকসহ অন্তত ৮ জন একই রাতে চুরির শিকার হয়েছেন।

Model Hospital

এলাকাবাসী কামাল উদ্দিন বিপ্লব বলেন, “এ ঘটনা পুরো গ্রামে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। নব্বইয়ের দশকের পর এত বড় সিঁধেল চুরির ঘটনা আর ঘটেনি।”

অনেকে অভিযোগ করেছেন, এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা গভীর রাত পর্যন্ত ঘোরাফেরা করে, আর এই চুরির সাথে তাদেরই সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে সিঁধ কেটে চুরি বহু বছর হয়নি। পুলিশের টহল বাড়াতে হবে, না হলে মানুষ নিজেরাই পাহারা বসাতে বাধ্য হবে।”

মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সালেহ আহমেদ বলেন, “এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। টহল জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, এভাবে সিঁধ কেটে চুরি চলতে থাকলে গ্রামজুড়ে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হবে। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, রাতের টহল ও নজরদারি বাড়ানো এবং মাদক ব্যবসায়ীদের দমন অভিযান চালানোর জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital