শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

রেলপথ মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক

চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলের অযোগ্য মেঘনা-সাগরিকা, নতুন ট্রেনের আবেদন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:১৫ পিএম
চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলের অযোগ্য মেঘনা-সাগরিকা, নতুন ট্রেনের আবেদন

চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে দীর্ঘদিন ধরে মাত্র দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে। কিন্তু মেঘনা এক্সপ্রেস ও সাগরিকা এক্সপ্রেস নামের ট্রেন দুটি বর্তমানে পুরোনো ও চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় যাত্রীরা প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না। গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে নতুন একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি উঠেছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক রেলপথ মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছেন। এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।

তিনি বলেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে একটি আন্তঃনগর ট্রেন দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।

Model Hospital

চাঁদপুর-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াত করেন যাত্রী ও বিভিন্ন পেশার লোকদের সঙ্গে কথা হয় ট্রেনের মান উন্নয়ন ও নতুন ট্রেনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে।

শাহরাস্তির ব্যবসায়ী সুমন বলেন, এই রূটে চলাচলকারী দুটি ট্রেনেই যাত্রী সেবার কোন মান বা পরিবেশ নেই। এখনো যাতায়াতের অযোগ্য মেয়াদোত্তীর্ণ ব্রিটিশ আমলের কোচ দিয়ে এই ট্রেন দুটো পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় যাত্রী ছাড়াও বরিশাল এবং শরিয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা সময় বাঁচাতে নিরুপায় হয়ে এই রুটে ভ্রমণ করছেন।

চট্টগ্রামে ব্যাবসা করেন বাগাদি ইউনিয়নের সোবহানপুর গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, এই রুটে দুটি ট্রেনের অবস্থা খুবই নাজুক। দীর্ঘদিন এসব ট্রেনের উন্নয়ন না হওয়ার কারণে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। রেল ভ্রমণ আরামদায়ক হওয়ার কারণে সব সময় যাত্রী বেশি থাকে।

ভ্রমণ করার জন্য প্রায় সময় এই রুটে যাতায়াত করেন আইনজীবী চৌধুরী ইয়াছিন ইকরাম। তিনি বলেন, এই রুটে সাগরিকা এক্সপ্রেস লোকাল। আর মেঘনা এক্সপ্রেসে বহুসংখ্যক হকার উঠে। তাদের কারণে যাত্রীরা হয়রানি এবং বিড়ম্বনার শিকার হন। নতুন করে একটি আন্তঃনগর ট্রেন দেয়া হলে চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীসহ দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের সুবিধা কয়েকগুণ বাড়বে।

শহরের ব্যবসায়ী অহিদুর রহমান খান উৎপল বলেন, এই রুটে দুটি ট্রেনের পর তৃতীয় ট্রেনের প্রয়োজনীয়তা সময়ের দাবি। এই অঞ্চলের অনেক লোক কক্সবাজার ভ্রমণ করতে যান। ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেনের সময়সূচির সাথে মিল রেখে নতুন ট্রেনের সময় নির্ধারণ করলে ভ্রমণে নতুনমাত্রা যোগ হবে। এছাড়া মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেন চাঁদপুর থেকে যাত্রা সময় ভোরে হওয়ার কারণে গ্রামের অনেক যাত্রী যেতে পারে না। এসব বিষয়গুলো আলোচনা করে ঠিক করার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ বাসিন্দা মহিউদ্দিন আল-আজাদ বলেন, এই রুটে অনেক যাত্রী। বেশিরভাগ সময় দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। নতুন করে আন্তঃনগর এবং এসি ট্রেন খুবই প্রয়োজন। আর সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেন পরিবর্তন করে স্পেশাল ট্রেন দেওয়া খুবই জরুরি।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে অনেক যাত্রী ব্যক্তিগত কাজ ছাড়াও দাপ্তরিক কাজে যাতায়াত করেন। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সন্তোষজনক নয়। নৌ-রুটেও চলাচলের ব্যবস্থা নেই। বর্তমানে মেঘনা এক্সপ্রেস ও সাগরিকা এক্সপ্রেসও এই অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক যাত্রীদের চাহিদা মেটাতে পারছে না। ট্রেন দুটির বেশিরভাগ ওয়াশরুম, লাইট, ফ্যান ও চেয়ারের অবস্থা জরাজীর্ণ।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে এই রুটের যাত্রীরা দাঁড়িয়ে যাতায়াত করে। কর্মসংস্থানের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এই রুটে চট্টগ্রামের যাতায়াত করে। তুলনামূলক স্বল্প ভাড়া ও যাতায়াত সুবিধার জন্য এই রুটে যাত্রী সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণাঞ্চলসহ যাত্রীদের সুবিধার্থে রেল লাইন সংস্কারসহ একটি আন্তঃনগর ট্রেন প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। যে কারণে আমি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি অবহিত করে চিঠি দিয়েছি।

সূত্র : জাগো নিউজ

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।