রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছাগল চড়ায় কে? সেবাপ্রার্থীদের ক্ষোভ…

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৬:২০ পিএম
কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছাগল চড়ায় কে? সেবাপ্রার্থীদের ক্ষোভ…

কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছাগল চড়ানোর দৃশ্য।

চাঁদপুরের  কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন “হাসপাতালের ভেতরে ছাগল চড়ায় কে?”।
চিকিৎসা সেবায় ইতিবাচক সুনাম অর্জন করলেও সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে খানা-খন্দ, পর্যাপ্ত চিকিৎসক সংকট, ঔষধের ঘাটতি, দালালের দৌরাত্ব, পুরুষ ওয়ার্ডের পাশে হাসপাতাল বর্জ্য ফেলে রাখা—এসব কারণে ভোগান্তি যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে রোগীদের।
এছাড়া হাসপাতালের ভেতরে অটোরিকশার দৌরাত্ব রোগী চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে প্রতিদিন। এর মধ্যেই সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫) দুপুরে হাসপাতালের আউটডোর চিকিৎসক চেম্বারের সামনে অবাধে ছাগল ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য ধরা পড়ে।
সেবাপ্রার্থীরা বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এমন অব্যবস্থাপনা দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। তারা দ্রুত পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, দালালের দৌরাত্ব বন্ধ এবং হাসপাতাল চত্বরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ কামনা করেছেন।
সচেতন মহল জানান, কেবল চিকিৎসা সেবা উন্নত করলেই হবে না; হাসপাতালের ভেতরে পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জরুরি। দালাল ও অবৈধ দৌরাত্ব বন্ধে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
এক কথায়, কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছাগল চড়ানোর দৃশ্য শুধু হাস্যকর নয়, বরং অব্যবস্থাপনার প্রতিচ্ছবি। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গাটি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এব্যাপারে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত)  ডাঃ সোহেল রানা ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।