রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে শারদীয় দুর্গোৎসবে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে চাঁদপুর ডিসি-এসপি

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশের মূল শক্তি : জেলা প্রশাসক মোহসীন উদ্দিন

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫, ৪:০১ পিএম
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশের মূল শক্তি : জেলা প্রশাসক মোহসীন উদ্দিন
শারদীয় দুর্গোৎসব-১৪৩২ উপলক্ষে শাহরাস্তি উপজেলার কয়েকটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন। বুধবার (১ অক্টোবর ২০২৫) বিকেলে তিনি বরুলিয়া এবং সন্ধ্যায় মেহার কালীবাড়ি হরিসভায় স্থাপিত দুর্গোৎসবের পূজামণ্ডপগুলো ঘুরে দেখেন।
চাঁদপুর জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তমাল চন্দ্র ঘোষের সঞ্চালনায়, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। চাঁদপুর তথা শাহরাস্তিতেও সেই সম্প্রীতি বজায় রেখে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ উৎসবে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর স্ট্রাইকিং ফোর্স, পুলিশ, আয়োজক ও স্থানীয়দের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আপনারা নির্ভয়ে সম্প্রীতি বজায় রেখে সুন্দর পরিবেশে দুর্গোৎসব পালন করুন।”
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজিয়া হোসেন বলেন, “শাহরাস্তিতে সকল ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব পালন করছে। উপজেলা প্রশাসন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে নজরদারি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।”
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব (পিপিএম বার), চাঁদপুর সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, পিএসসি (২১ বীর), কচুয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল হাই চৌধুরী, শাহরাস্তি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা, শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মোঃ আবুল বাসার (পিপিএম বার), শাহরাস্তি উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাবু নিখিল চন্দ্র মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক অমৃত মজুমদার টুটন, শ্রীশ্রী গোপাল জিউ আখড়ার সভাপতি বাবু হারাধন চন্দ্র দে, সাধারণ সম্পাদক শাওন মজুমদারসহ পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
উল্লেখ্য, এ বছর শাহরাস্তি উপজেলায় মোট ১৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে পৌরসভায় ৯টি এবং উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ১০টি পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হয়েছে। মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে এবং আগামী ২ অক্টোবর মহাবিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।