বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কাজে আসছে না ছেংগারচর পৌরবাসীর ১১ কোটি টাকার পানি শোধনাগার

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:৩২ পিএম
কাজে আসছে না ছেংগারচর পৌরবাসীর ১১ কোটি টাকার পানি শোধনাগার
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভায় প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার। পানি সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধনের তিন বছর পার হলেও তা এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
বিশুদ্ধ পানির অভাবে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাধ্য হয়েই টিউবওয়েলের ওপর নির্ভরশীল পৌর এলাকার মানুষ।
জানা যায়, ২০১৯ সালে সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তির এ প্রকল্পের মাধ্যমে পুরো পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ ভূগর্ভস্থ পানি সরবরাহের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৪৭৫টি পরিবারের (হোল্ডিং) মধ্যে মাত্র ৩২৮টি পরিবার অর্থাৎ প্রায় ৩ শতাংশ এলাকায় সীমিত আকারে সরবরাহ চালু আছে।
চাঁদপুর জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ৪৫০ ঘন মিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন উচ্চ জলাধার ছেংগারচর পৌরসভার পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পটি উদ্বোধনের পর থেকেই রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে চরম ঘাটতি। একজন অপারেটর ও একজন নাইটগার্ড দিয়েই কোনোরকম চলছে এর কার্যক্রম।
উদ্বোধনের পর থেকেই পাইপলাইনের নানা ত্রুটি, লিকেজ এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পানি সরবরাহ স্থবির হয়ে পড়ে। অনেক এলাকায় পাইপলাইন থাকলেও পানি পৌঁছায় না। আবার কিছু এলাকায় একদিন পানি এলে পরের দিন থাকে না।
পৌর এলাকার ওটারর গ্রামের বাসিন্দা দেওয়ান মুরাদুজ্জামান বলেন, ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১১ কোটি টাকা খরচ করে এত বড় প্রকল্প হলো; কিন্তু আমরা এখনো টিউবওয়েলের পানিতেই নির্ভরশীল। মাঝে মাঝে শুনি পানি আসবে; কিন্তু আমাদের এলাকায় তো কোনো পানিই আসে না।
দেওয়ানজীকান্দি এলাকার গৃহিণী রোজিনা বেগম জানান, টাকা খরচ করে পানির লাইন নিয়েছি; কিন্তু মাসে গড়ে ১৫ দিনের বেশি পানি পাওয়া যায় না। পানির মধ্যে মাঝেমধ্যে শ্যাওলা পাওয়া যায়।
পৌর এলাকার আরেক বাসিন্দা নূরুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, অফিসে গেলে বলে মেরামত চলছে। তিন বছর ধরে শুধু মেরামতই চলছে; কিন্তু সমাধান হচ্ছে না। মাস শেষে ২০০ টাকা পানির বিল পরিশোধ করতে হয়।
পৌর এলাকার সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করল, তা যদি জনগণের কাজে না আসে, তাহলে এ অর্থের কোনো মূল্যই থাকল না। দুর্নীতি, তদারকির অভাব এবং অবহেলার কারণেই এ অবস্থা।
ছেংগারচরের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ এখনো নিরাপদ পানি সুবিধার বাইরে। তারা টিউবওয়েল, বেসরকারি বোতলজাত পানি কিংবা খাল-বিলের পানির ওপর নির্ভর করেই দৈনন্দিন চাহিদা মেটাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ব্যয়বহুল এ প্রকল্প পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে এবং কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থ অপচয় হবে।
ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগারের দায়িত্বে থাকা অপারেটর মো. মিরাজ হোসেন বলেন, আমরা নিয়মিতভাবে পানি সরবরাহের চেষ্টা করি। কিন্তু লাইন লিকেজ এবং মেশিনে কিছু সমস্যা থাকায় পুরোপুরি পানি দেওয়া যাচ্ছে না। পানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ চলছে।
এ বিষয়ে ছেংগারচর পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, পানি সরবরাহ প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্বোধনের পর থেকে আংশিক কার্যক্রম চালু আছে। তবে লিকেজ, যান্ত্রিক সমস্যা এবং জনবল সংকটের কারণে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। এরই মধ্যে কিছু লাইনের মেরামত শুরু হয়েছে। শিগগির পৌরবাসী প্রত্যাশিত পানি সুবিধা পাবেন।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital