বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগে ঝোপঝাড় পরিষ্কার অভিযান

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:১৯ পিএম
হাজীগঞ্জে সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগে ঝোপঝাড় পরিষ্কার অভিযান

হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সেতুর উত্তর ও দক্ষিণ পাশের রাস্তার দুই পাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় কয়েকটি সামাজিক সংগঠন।

রোববার বিকেল ৩টায় হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনে আল জায়েদ হোসেন ও হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক।

পুরো কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজকর্মী সাইফুল ইসলাম সিফাত।
অভিযানে অংশ নেয় হাজীগঞ্জ উপজেলা যুব রেডক্রিসেন্ট দল, সুহিলপুর যুব ব্লাড ফাউন্ডেশন, লাল সবুজ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বাতিঘর মানবকল্যাণ সংস্থা, সিই কমার্স ফাউন্ডেশন, আমাদের হাজীগঞ্জ গ্রুপসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও শিক্ষার্থীরা।

বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া অভিযান শেষ হয় সন্ধ্যা ৭টায়।
সড়কের দু’পাশে ঝোপঝাড় থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছিলো এবং অপরাধীদের জন্য তৈরি হয়েছিল নিরাপদ আশ্রয়স্থল। ছিনতাইকারীরা সহজে অপকর্ম সম্পন্ন করে পালিয়ে যেতে পারতো। স্থানীয়রা সড়ক ও জনপদ বিভাগকে একাধিকবার জানিয়েও প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো নিজেরাই মাঠে নামে।

Model Hospital

কার্যক্রমের নেতৃত্বদানকারী সাইফুল ইসলাম সিফাত বলেন, “একটি সুস্থ ও সুন্দর শহর গড়তে আমাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব আছে। প্রতিদিন যে কেউ যদি মাত্র এক ঘণ্টা সময় সমাজের কল্যাণে ব্যয় করে, তবে অল্প সময়েই পরিচ্ছন্ন ও সবুজ হাজীগঞ্জ গড়ে তোলা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “এই অভিযান শুধু রাস্তা পরিষ্কার নয়, এটি নাগরিক সচেতনতারও বার্তা দেয়। মানুষ যদি নিজের চারপাশটুকু পরিষ্কার রাখে, তাহলে প্রশাসন ও সমাজ মিলে আমরা একটি গ্রীন হাজীগঞ্জ গড়তে পারবো।”

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, এই ঝোপঝাড়গুলো শুধু সড়কের সৌন্দর্য নষ্ট করছিল না, বরং অপরাধীদের জন্য হয়ে উঠেছিল নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
ছিনতাই, মাদক লেনদেন কিংবা রাতের অন্ধকারে অন্য যেকোনো অপরাধ সবচেয়ে বেশি ঘটতো এই ঝোপঝাড়ের আড়ালেই।
আজ স্বেচ্ছাসেবীদের এই উদ্যোগে সেসব অপরাধীদের লুকানোর জায়গাও উন্মুক্ত হয়ে গেছে।
আমরা চাই, এমন নাগরিক উদ্যোগ যেন অন্য এলাকাতেও অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনার জন্য আমরা ডাম্পিং ইয়ার্ড করতে জায়গা খুঁজছি। জায়গা পেলেই পৌর শহরের কোথাও আর ময়লা থাকবে না।
যেটা সরকারের করার কথা, সেই কাজটাই আজ আপনারা স্বেচ্ছাসেবীরা করছেন, এজন্য আপনাদের আন্তরিক সাধুবাদ জানাই।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযানে উপস্থিত ছিলেন এস. এম. মিরাজ মুন্সী, রোটা. নিশান রহমান, মেজবাহ আহমেদ, আসাদুজ্জামান নূর, শরিফ হোসেন, ইয়াসিন আরাফাত, নিরব আহমেদ, জাবেদ পাটোয়ারী, আল আমিন মজুমদার, সাকিব মুন্সী, রাকিব চৌধুরী, মারুফ পাটোয়ারী, বোরহান উদ্দিন, আরাফ, জাহিদুল ইসলাম, মাহাথির, ইউসুফ, ইমাম হাসান ও নূর আলম পাটোয়ারীসহ অনেকে।

অভিযানে সহযোগিতা করেন পিজ্জা ওয়ালী, হাজীগঞ্জ পৌরসভা ও ট্রাফিক বিভাগ।
স্থানীয়রা উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এমন নাগরিক সচেতনতা ও ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসই হাজীগঞ্জকে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ নগরে পরিণত করবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।