বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

এতিম মেয়ের বিবাহে মানবতার হাত বাড়িয়ে দিল দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:০৫ পিএম
এতিম মেয়ের বিবাহে মানবতার হাত বাড়িয়ে দিল দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থা

চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার ১৭নং রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড দাদিয়াপাড়া গ্রামের মিজি বাড়ির এক এতিম মেয়ের বিবাহ উপলক্ষে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থা।

অরাজনৈতিক ও সেবামূলক এই সংগঠনটি আর্তমানবতার সেবায় বরাবরই কাজ করে আসছে দেশ ও প্রবাসে থাকা দাদিয়াপাড়াবাসীর আর্থিক সহায়তায়। তারই ধারাবাহিকতায় অসহায় ও এতিম এই মেয়ের বিয়ের জন্য সংগঠনটির পক্ষ থেকে নগদ পঁচিশ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়।

এ উপলক্ষে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর ২০২৫) বাদ জুমা দাদিয়াপাড়া পূর্ব পাড়া গ্রামের শেখ বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ সুমনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মাওলানা মো. সেলিম উদ্দিন।

Model Hospital

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কার্যকরী কমিটির সদস্যবৃন্দ, প্রবাসী দাতা সদস্যরা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ এলাকার তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ সুমন বলেন, “ইসলামে বিয়ে কেবল সামাজিক রীতি নয়, এটি একটি ইবাদত। যে ব্যক্তি অন্যের বিয়েতে সাহায্য করে, বিশেষত গরিব ও এতিমের, সে এক মহৎ ইবাদতে অংশগ্রহণ করে। এই সহায়তা কেবল দান নয়, এটি একটি সদাকায়ে জারিয়া—যার সওয়াব মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের সমাজে অনেক তরুণ-তরুণী আর্থিক সংকটের কারণে বিয়েতে বাধাগ্রস্ত হয়। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের উচিত—এমন অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো।”

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জানান, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। তাঁরা ভবিষ্যতে অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষার্থী বৃত্তি কর্মসূচি এবং গৃহহীনদের পাশে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই মহৎ উদ্যোগের জন্য দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, “এমন সামাজিক উদ্যোগ আমাদের সমাজে মানবতার চেতনা আরও জাগ্রত করবে।”

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

চাঁদপুরের মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করায় তাকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। ওই শিক্ষকের নাম মোঃ জুয়েল তালুকদার। তার বাড়ী হাজীগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দসার গ্রামে। তার পিতার নাম আলী আজম। মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। এক বছর আগে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেন তিনি।

জানা গেছে, শিক্ষক জুয়েল তালুকদার তার নিজের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যাঙ্গ করে এবং কুরুচিপূর্ণ ও সমালোচনামুলক একাধিক পোস্ট করেন ওই শিক্ষক। বিগত কয়েক মাস যাবৎ ‘জুয়েল তালুকদার ‘ নামের ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ছাড়াও বিএনপির সাবেক মহাসচিব বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছবি দিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নজরে আসলে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃস্টি হয় এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।

তাৎক্ষণিক মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি কেএম ইশমাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক জুয়েল তালুকদারকে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

Model Hospital

মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান বলেন, ‘ওই শিক্ষক সরকারের সুবিধা ভোগ করে তার ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা করে আসছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।’

মতলব পৌর বিএনপির সভাপতি শোয়েব আহমেদ সরকার বলেন,‘ওই শিক্ষক মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অন্তরালে সরকারের বিরুদ্ধে কটুক্তি করার অভিযোগে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান তিনি।’

ঘটনার সত্যতার স্বীকার করে জুয়েল তালুকদার বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি পরবর্তীতে ডিলিট করে দিয়েছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি কেএম ইশমাম বলেন, ‘শিক্ষককে বাধ্যতামুলক ছুটির পাশাপাশি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ কার্যদিসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।’