রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে ফরিদগঞ্জে ইমাম-খতিব ও তৌহিদী জনতার বিক্ষোভ

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:৫৪ পিএম
ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে ফরিদগঞ্জে ইমাম-খতিব ও তৌহিদী জনতার বিক্ষোভ
গাজীপুরের টঙ্গীতে ইমাম অপহরণ, হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও ইসকন সংগঠনের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ফরিদগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বাদ জুমা উপজেলার ইমাম-খতিব ও তৌহিদী মুসলিম জনতা এ কর্মসূচি পালন করে।
ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আলিয়া মাদ্রাসা মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, “ইসকন তুই জঙ্গি, স্বৈরাচারের সঙ্গী”, “জঙ্গিবাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না” প্রভৃতি।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা মুমিনুল ইসলাম খান। আরও বক্তব্য দেন তুলাতলি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি আনোয়ার হোসেন আমিনি, উপজেলা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ইউনুছ আহমেদ প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ইসকন একটি উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী সংগঠন, যারা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টায় লিপ্ত। তারা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সুবিধাবাদী শক্তির ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করছে। এখন তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা সৃষ্টির চক্রান্তে লিপ্ত। বক্তারা অবিলম্বে ইসকনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও সাম্প্রতিক আইনজীবী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন মডেল মসজিদের ইমাম মাওলানা মাকসুদুল আমিন, সাহাপুর খানবাড়ি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবুল কাশেম, মাওলানা জাকির হোসেন, মাওলানা হাবিব হোসেনসহ শত শত তৌহিদী জনতা।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।