রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে এক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাই ২৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রিজাইটিং !

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:২১ পিএম
চাঁদপুরে এক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাই ২৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রিজাইটিং !
দেশব্যাপী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের বিষয়টি এখন বেশ আলোচিত। এরমধ্যে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার আলোচনায় সবার শীর্ষে ১ জন সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাই উপজেলার ২৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রিজাইটিং অফিসারের দায়িত্ব বাগিয়ে নেয়ার বিষয়টি। এমনকি আইনকে পাশ কাটিয়ে তিনি উপজেলার ১৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির আহবাকের দায়িত্বেও রয়েছেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা প্রিজাইটিং হওয়ার শর্ত থাকলেও উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম এ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের দায়িত্বে থেকে কৌসলে ২৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রিজাইটিং এর ক্ষমতা নিয়ে নেয়ার বিষয়ে পুরো উপজেলায় এখন সমালোচনার ঝড় বইছে। তিনি ১৮টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ৫ টি স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালনা কমিটি নির্বাচনে প্রিজাইটিং অফিসারের দায়িত্বে আছেন।
উপজেলার কয়েকটি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান নাম প্রকাশ না করা শর্তে তারা ক্ষোভ করে বলেন, এ উপজেলায় প্রথম শ্রেণীর ২০ এর অধিক কর্মকর্তা থাকা সত্বেও অর্থলোভী ও কৌশলবাজ একজন সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার উপজেলার ৪২ টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনা করার ক্ষমতার প্রিজাইটিং অফিসারের দায়িত্ব নেয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের চোখে আশ্চর্যের হলেও এ অফিসার মূলত এরকমই বলে জানান স্থানীয় বেশরক’জন প্রধান শিক্ষক।
তারা জানান, বিগত ১৫ বছর তিনি তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সাথে ভাগবাটোয়ারা ও বিশেষ সখ্যতার বদৌলতে এ উপজেলায় কর্মরত ছিলেন এটা আশ্চর্যের, তখন বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির  নির্বাচন উনি একাই করতেন এটাও আশ্চর্যের, স্কুল নির্বাচনে মাঠের অবস্থা ভালো এমন অন্তত দুই প্রার্থীর সাথে কন্ট্রাক্ট করে তাদেরকে হুবহু ব্যালট-ছিল ছাপিয়ে দিয়ে বিশ্বস্ত ভোটারদের মাধ্যমে বাক্সে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে পাশের ব্যবস্থা করেদিতেন এটাও আশ্চর্যের। স্কুল পরিচালনা কমিটির নির্বাচন ও তার দাপ্তরিক কাজে অসংখ্য আশ্চর্যের বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের কাছে আশ্চর্যের হলেও এ উপজেলার প্রধান শিক্ষকরা মোটেও আশ্চর্য নন।
কারণ, তিনি অসম্ভব ক্ষমতাধর আর তিনি যে কোন অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারেন সেটা এখানকার প্রধান শিক্ষকরা খুব ভালো করেই জানেন। তাছাড়া, ওনার মতের বাইরে গেলে পরিনতি কি হতে পারে সেটাও প্রধান শিক্ষকদের অজানা নয়।
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষকরা অরো অভিযোগ করে বলেন, এই সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল স্যার বিগত ১৫ বছর এ উপজেলার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে উনিই থাকতেন প্রিজাইডিং অফিসার। প্রিজাইটিং অফিসারের সম্মানীর নাম করে এবং বিভিন্ন অজুহাতে তিনি প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৩০ থেকে ৪০ হাজারেরও অধিক টাকা হাতিয়ে নিতেন।
উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও ২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রিজাইটিং অফিসার আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে বেশ ক’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বিগত সময়ের স্কুল পরিচালনা কমিটির নির্বাচন নিয়ে তার ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপিয়ে প্রার্থীর কাছে বিক্রি সহ তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও উপজেলা বা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করতে সাহস পাননি। কেননা, উনার হাত নাকি অনেক লম্বা।
এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলার ইন্দুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, মতলবের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে নিজের পকেট ভারী করতে এই আশরাফুল সাহেবের কোন বিকল্প নেই। উপজেলা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আমার স্কুল থেকে অর্থলোপাটের পাঁয় তারার কারণে আমি ওনাকে এই উপজেল থেকে অন্যত্র বললি করালেও তদবির জোরে খুব দ্রুতই তিনি আবার এ উপজেলায় ফিরে আসেন। এ উপজেলা যেনো ওনার টাকা বানানোর ফ্যাক্টরি।
কথা হলেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও ২৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রিজাইটিং অফিসার আশরাফুল আলম বলেন,  আমি প্রিজাইটিং অফিসার হইতে পারি কি পারি না এবং আমি কোন গ্রেডের অফিসার  কেউ না জানলে আইসা জাইনা যাক। আর এতগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রিজাইটিং এর দায়িত্ব তো আমি নেই নাই, কর্তৃপক্ষ আমাকে দিয়েছে।
এ বিষয়ে কথা হলে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুসুম মনি জানান, প্রথমদিকে তাকে অনেকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির প্রিজাইটিং এর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে গিয়েছিল কিন্তু পরে আর দেয়া হয়নি।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।