রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

নির্বাচনকে বানচাল করার সব অপচেষ্টা জনগণ রুখে দেবে : ড. জালাল উদ্দিন

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৫০ পিএম
নির্বাচনকে বানচাল করার সব অপচেষ্টা জনগণ রুখে দেবে : ড. জালাল উদ্দিন
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেছেন, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া, জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার এবং ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার একটা পাঁয়তারা শুরু হয়েছে। আবারও বিভাজনের রাজনীতি শুরু হয়েছে। তাই যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ নির্বাচন উৎসবে মেতে উঠেছে। তাই নির্বাচকে বানচাল করার সব অপচেষ্টাই জনগণ রুখে দেবে। কারণ নির্বাচন অনিশ্চিত বা পিছিয়ে পড়লে চব্বিশের গণঅভ‍্যুত্থান বেহাত হয়ে যাবে।
শনিবার (১লা নভেম্বর) বিকেলে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির লস্করের বাড়িতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্তৃক রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নে ঘরে ঘরে জনে জনে কর্মসূচি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ড. জালাল উদ্দিন বলেছেন, দলের মধ্যে বিরোধ থাকলে ধানের শীষকে বিজয়ী করা সম্ভব হবেনা। তাই সকল বিরোধ ভুলে আগে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।
তিনি আরও বলেছেন-আমাদের নেতা তারেক রহমানকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনতে হলে দলের মধ্যে কোন ধরনের বিভেদ রাখা যাবেনা। সকল বিভেদ ভুলে আগে ধানের শীষকে বিপুল ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী করতে হবে।
যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়াতে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহবান জানিয়ে ড. জালাল উদ্দিন বলেন, বিএনপির ওপর সব সময় গুরুদায়িত্ব এসে পড়ে। সেই দায়িত্ব হচ্ছে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা, দেশকে আবার নতুন করে গড়ে তোলার।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার কাজ শুরু করেছিলেন, এখন যে তরুণ নেতা নতুন স্বপ্নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার নেতৃত্ব দিচ্ছেন, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব, তাঁদের স্বপ্নগুলো এবং বাংলাদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে অত্যন্ত সজাগ ও সচেতনভাবে কাজ করতে হবে।
দূর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির লস্করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের পক্ষে তার সহধর্মিনী ইঞ্জিনিয়ার শাহনাজ শারমিন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক বাদল, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপন।
বিএনপির প্রয়াত নেতা কর্মীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।