শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

শিল্প-সাহিত্যে সংগঠনের ভূমিকা শীর্ষক চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির গোল টেবিল বৈঠক

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:১৪ পিএম
শিল্প-সাহিত্যে সংগঠনের ভূমিকা শীর্ষক চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির গোল টেবিল বৈঠক

শিল্প-সাহিত্যে সংগঠনের ভূমিকা শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করেছে প্রগতিশীল প্রতিষ্ঠান চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি।

শনিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় চর্যাপদ একাডেমির সভাপতির কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

একাডেমির সভাপতি আয়েশা আক্তার রুপার সভাপতিত্বে, মহাপরিচালক অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণির সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সহ-সভাপতি শিউলী মজুমদার, পরিচালক ফেরারী প্রিন্স, সহযোগী পরিচালক জয়ন্তী ভৌমিক, নির্বাহী পরিচালক আইরিন সুলতানা লিমা, প্রচার ও প্রকাশনা পরিচালক নাজমুল ইসলাম, প্যাপিরাস পাঠাগারের প্রধান পরিচালক মিজানুর রহমান স্বপন, সিসিডিএ চাঁদপুরের সমন্বয়ক নার্গিস আক্তার, দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার চাঁদপুর প্রতিনিধি সাইদ হোসেন অপুু চৌধুরী, বংশিবাদক বেলাল শেখ, সাহিত্যানুরাগী আকবর হোসেন লিটন, খাদিজা মুন্নি ও ঝরনা আক্তার। কবিতা আবৃত্তি করেন রাইসা।

একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা রফিকুজ্জামান রণি বলেন, শিল্প-সাহিত্যে সংগঠনের অবদান অপরিসীম। বাংলা সাহিত্যের আদি নির্দশন চর্যাপদ প্রকাশের পেছনে একটি সংগঠনের অবিস্মরণীয় ভূমিকা রয়েছে। ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজসভা থেকে চর্যাপদ আবিষ্কারের পর ১৯১৬ সালে এটি প্রকাশ করে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ নামের একটি সংগঠন। এ আবিষ্কার বৈপ্লবিক সাড়া ফেলে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর সহ-সভাপতি।

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, অনেকে মনে করে শিল্প-সাহিত্যে সংগঠনের কোনো ভূমিকা নেই। এগুলো ভ্রান্ত ধারণা। যুগযুগ ধরে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে সংগঠনের মাধমে সাহিত্যের অনেক শক্তিশালী ভিত তৈরি হয়েছে। নাটক তো সাহিত্যেই একটি অংশ। আমাদের নাট্যকলাকে প্রাণ দিয়েছে সংগঠনগুলো। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমেই নাট্যচর্চার সম্প্রসারণ বেশি ঘটেছে। বাংলাসাহিত্যের আদি নির্দশন চর্র্যাপদই তো প্রকাশিত হয়েছে একটি সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতায়। তাহলে সংগঠনের অবদান নেই কে বলেছে?

সভাপ্রধান আয়েশা আক্তার রুপা বলেন, সংঘবদ্ধভাবে যে কোনো কাজ করা যতটা সহজ, এককভাবে ততটা সহজ নয়। সংগঠনের মাধ্যমে সমাজের একটি বার্তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া যায়।

অনুষ্ঠানে শিল্প-সাহিত্যে সংগঠনের ভূমিকা বিষয়ক প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে অতীত ও বর্তমানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন বক্তরা।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে দেশীয় স্ন্যাকস্ আইটেমের খাবারের পাশাপাশি, সবশেষে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।