রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

মতলবে নন্দলালপুর স্কুলের শ্রেণিকক্ষ সংকটে টিনের চালায় চলছে পাঠদান

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:৩২ এম
মতলবে নন্দলালপুর স্কুলের শ্রেণিকক্ষ সংকটে টিনের চালায় চলছে পাঠদান

বিদ্যালয়ে একটি মাত্র ভবন হওয়ায় শ্রেণিকক্ষ সংকটে টিনের চালায় চলছে পাঠদান। ভবনের সঙ্গেই ছোট একটি দোচালা টিনের খুপড়ি ঘরের মধ্যে চলছে  শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম। এ চিত্র চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের নন্দলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রখর রোদে কষ্ট সহ্য করে টিনের চালার নিচে ক্লাস করে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বৃষ্টির দিনে পাঠদানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেশি হবে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমে গেছে। নতুন ভবন দ্রুত র্নির্মাণ না হলে এভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো মুশকিল হয়ে যাবে।

জানা গেছে, ১৯৩৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টির দুই তলা একটি ভবন পূর্ণ নির্মাণ হয় ২০০০-২০০১ সালে। বিদ্যালয়টি উপজেলার মধ্যে একাধিকবার প্রথম স্থান অধিকার করেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা৩১২ জন। যাদের পাঠদানের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ শ্রেণিকক্ষ নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, টিনের চালার খুপরি ঘরের মধ্যে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান।ঘরের মেঝে বালুময়। ধুলাবালু উড়ছে। গরমে অতিষ্ঠ হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা।

Model Hospital

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলে, গরমের মধ্যে ক্লাস করতে খুব কষ্ট হচ্ছে তাদের। এ ছাড়া সামান্য বৃষ্টি হলে টিনের ছিদ্র দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে বই খাতা ভিজে যায়। কবে আমরা পাকা ঘরে বসে ক্লাস করতে পারব? অন্য বিদ্যালয়ের মতো পাকা ঘরে বৈদ্যুতিক পাখার নিচে বসে আমরা পড়তে চাই।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিব জানায়, ভবন না থাকায় আমাদের অনেক কষ্ট করে পাঠগ্রহণ করতে হচ্ছে। রোদের কারণে টিনের চালা খুবই গরম হয়। তাপে মনে হয় শরীর পুড়ে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নমিতা সরকার বলেন, ভবন না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গরমের মধ্যে ক্লাস করতে খুব কষ্ট পাচ্ছে বাচ্চারা। পাঠদানের সময় অমনোযোগী হয়। এ কারণে শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও দিন দিন কমছে।

অভিভাবক আলী আহমদ  বলেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের অবস্থা ভালো না। যার কারণে বাচ্চারা স্কুলে যেতে চায় না। সরকার যদি নতুন ভবনের ব্যবস্থা না করে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাবে।

প্রধান শিক্ষক সুখরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যেই বাধ্য হয় পাঠদান চালিয়ে আসছি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ। বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। এসব কারণে অভিভাবকরাও বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না বলেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মণি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনগুলো হয়ে থাকে এলজিডির মাধ্যমে ইতিমধ্যে। পূর্বের নির্বাহী কর্মকর্তা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ের ভবনের একটি তালিকা পাঠিয়েছে। আমি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে  ভবনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।