রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরের পুরানবাজারে বিশ্ব শান্তি কামনায় ঘৃত প্রদীপ প্রোজ্জ্বলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:৫৪ এম
চাঁদপুরের পুরানবাজারে বিশ্ব শান্তি কামনায় ঘৃত প্রদীপ প্রোজ্জ্বলন
প্রাণঘাতী রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে এবং আপনজনের মঙ্গলার্থে ও বিশ্ব শান্তি কামনায় চাঁদপুরের পুরানবাজারে বাবা লোকনাথের ঘৃত প্রদীপ প্রজ্জ্বলন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৪ নভেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দাসপাড়ায় সর্বজনীন শ্রী শ্রী শিব মন্দির কমিটির ঘৃত প্রদীপ প্রোজ্জ্বলন উদযাপন পরিষদের আয়োজনে এ উৎসবটি করা হয়।
দাসপাড়া সর্বজনীন শ্রী শ্রী শিব মন্দির কমিটির ঘৃত প্রদীপ প্রোজ্জ্বলন উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলরাম সূত্রধর বলেন, বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগ থেকে বাঁচতে ও বিশ্ব শান্তি কামনায় উপবাস পালন করে বারদী আশ্রম প্রাঙ্গণে প্রদীপ ও ধূপ জ্বালাতে বলেছিলেন বাবা লোকনাথ। তখন থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উৎসবটি পালন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ঘটা করে ৩য় বারের মতো এখানে আমরা এই উৎসবটি করছি।
তিনি বলেন, দূরদূরান্ত থেকে ২ শতাধিক ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা এখানে জড়ো হয় এবং প্রদীপ, মোমবাতি ও ধূপ জ্বালিয়ে প্রার্থনায় অংশ নেন। পুরো মন্ডপ প্রাঙ্গণ আলো আর ধূপের ধোঁয়ায় ভরে যায়। আলো, অন্ধকার ও ধূপের ধোঁয়া মিলেমিশে ভিন্ন এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়ে থাকে।
অনুষ্ঠানে সার্বিক কাজে উপস্থিত ছিলেন দাসপাড়া সর্বজনীন শ্রী শ্রী শিব মন্দির কমিটির ঘৃত প্রদীপ প্রোজ্জ্বলন উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রবাস মজুমদার, শিব মন্দির কমিটির সভাপতি উত্তম কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক নেপাল সাহা, উপদেষ্টা শনি রাম দাস, শ্যাম সুন্দর দাস, অজিত দাস, ক্ষুদিরাম দাস, বাবুল পোদ্দারসহ অন্যরা। এতে সঙ্গীত পরিচালনা করেন পালপাড়া বিষ্ণু মন্দিরের বলাই সরকারসহ অন্যরা।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।