রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে মাদ্রাসা প্রধানদের সাথে মতবিনিময়

শিক্ষকরা একটি জাতিকে বদলে দিতে সক্ষম : ইউএনও জামিউল হিকমা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:৩৯ পিএম
শিক্ষকরা একটি জাতিকে বদলে দিতে সক্ষম : ইউএনও জামিউল হিকমা

চাঁদপুর সদরের মাদ্রাসা প্রধানদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম এন জামিউল হিকমা।

চাঁদপুর সদর উপজেলার মাদ্রাসা শিক্ষক প্রধানদের সাথে শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক সমস্যা সমাধান, এবং শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়নে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর)” সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)” এস এম এন জামিউল হিকমা।

তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে আমরা বেশকিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। তার একটি হলো শিক্ষকদের করণীয় শীর্ষক ধারাবাহিক বৈঠক। এই বৈঠকের মাধ্যমে কিভাবে আমাদের শিক্ষাকে এগিয়ে নেয়া যায়।

Model Hospital
শুধু পরীক্ষার ফল নয়, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করা, মেধা ও মননের উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যত উজ্জ্বল করা উপায় ঠিক করা। আপনারা যদি সদ্য প্রকাশিত এসএসসি দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণ ও তাদের ফলাফল পর্যালোচনা করেন, তবে অনেক কিছুই অনুধাবন করতে সক্ষম হবেন। আমাদের মনে রাখতে হবে শিক্ষকতা শুধু একটি চাকুরি নয়, এই পেশার লোকজন একটি জাতিকে বদলে দিতে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকরা উন্নত জাতি গঠনের কারিগর, একজন আদর্শ শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে নীতি নৈতিকতা শিক্ষা দিয়ে আগামী দিনের জন্যে আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে পারেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রধান শিক্ষকদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এর সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর সদর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন কুমার দাস, নূরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এটিএম মোস্তফা হামিদি, গাজীপুর নেচারিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নূর মোহাম্মদ খান, আনোয়ারা ইসলাম দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ জিয়াউদ্দিন খন্দকার, মান্দারী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নেছার আহমেদ, মনিহার দাখিল মাদ্রাসার সুপার নাজির আহমদ, বিষ্ণুদি ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জসীম উদ্দীন, কেতুয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ হেলাল উদ্দিন।

উল্লেখ্য: আগামী ৬ ডিসেম্বর চাঁদপুর জেলার সকল মাদ্রাসার শিক্ষার মান উন্নয়নে সমস্যা ও করণীয় শিক্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। মূলত অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।