শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে প্যাপিরাস পাঠাগারে আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:২৬ পিএম
নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে প্যাপিরাস পাঠাগারে আলোচনা সভা

যুবসমাজকে বইমুখী করতে ‘প্রাণের শক্তি বাড়ায় বই, বই পড়ে মানুষ হই’-স্লোগানে গত ১০ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে প্যাপিরাস পাঠাগার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি সপ্তায় দেশবরেণ্য কবি-সাহিত্যিকদের স্মরণে সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এবারের আড্ডা আবর্তিত ছিলো নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে ঘিরে।

শুক্রবার ৭ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় চাঁদপুর শৃহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডস্থ চাঁদ টাওয়ারে অবস্থিত প্যাপিরাস পাঠাগার কার্যালয়ে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে সাহিত্য আড্ডা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পাঠাগারের উপদেষ্টা মোহাম্মদ শাহ আলমের সভাপতিত্বে ও প্রধান পরিচালক মিজানুর রহমান স্বপনের সঞ্চালনায় কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের ‘জীবন ও সাহিত্য’ সম্পর্কে আলোচনা করেন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি, উপদেষ্টা দিলীপ ঘোষ, নির্বাহী সদস্য নাজমুল ইসলাম, বংশিবাদক বেলাল শেখ, খেলাফত মজলিশের চাঁদপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, শিক্ষালোর প্রতিষ্ঠাতা লিটন পাটওয়ারী, সাহিত্যানুরাগী আকবর হোসেন লিটন ও সাইফুল ইসলাম রাজিব।

পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি বলেন, হুমায়ূন আহমেদ শুধু কথাসাহিত্যিকই ছিলেন না, তিনি একজন দক্ষ গীতিকারও ছিলেন। ‘ও আমার উড়াল পংখী রে’, ‘একটা ছিলো সোনার কন্যা’, ‘যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো এক বরষায়’ তাঁর লেখা এমন অসংখ্য গান কোটি কোটি মানুষের মন জয় করেছে। বাংলা নাটকের নতুন ধারা তৈরি করেছেন হুমায়ূন আহমেদ। তাঁর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দেশবরেণ্য অনেক শিল্পীÑঅভিনেতা।

Model Hospital

হাস্যরসের ভেতর দিয়ে তিনি সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। ব্যতিক্রম ধারার বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন তিনি। যা বাংলা সিনেমার ইতিহাসকে ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলার ঘরে ঘরে তার গল্প-উপন্যাসের গ্রন্থ এমন ভাবে ঢুকে পড়েছে যে, আর কোনো সাহিত্যিকের বেলায় এমনটা চোখে পড়ে না।

সভাপ্রধান মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, হুমায়ূন আহমেদ গল্প-উপন্যাস এবং নাটকে মধ্যবিত্ত ও নিম্ম মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনধারা অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে তুলে ধরেছেন। রম্যরসিকতার মাধ্যমে মুখোশধারী সমাজের কুৎসিত চিত্র উন্মোচন করেছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি হুমায়ূন আহমেদের জীবন ও সাহিত্য সম্পর্কে প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশ নেন বক্তারা।
সব শেষে ফলচক্রের আয়োজন করা হয়।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।