বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সাহিত্য সংগঠন ‘শিল্পনন্দন’ সভাপতি মোরশেদা খানম বেবী, সম্পাদক এইচএম জাকির

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৫১ পিএম
সাহিত্য সংগঠন ‘শিল্পনন্দন’ সভাপতি মোরশেদা খানম বেবী, সম্পাদক এইচএম জাকির

চাঁদপুরে সাহিত্য সংগঠন ‘শিল্পনন্দন’-এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয় ৪ জুলাই ২০২২ খ্রি. তারিখে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি চাঁদপুরের লেখকদের বইয়ের প্রমোশন ও পাঠকের হাতে পৌঁছাতে নিরলসভাবে কাজ করার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে সৃষ্টিশীলতায় উদ্বুদ্ধ করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সংগঠনের স্লোগান হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে—“শিল্পে সৌন্দর্য, সৃষ্টিতে আনন্দ”।

ঘোষিত কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—সভাপতি মোরশেদা খানম বেবী, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান রানা ও দেওয়ান মাসুদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক এইচএম জাকির, সহ-সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র দাস ও জিহাদ সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান শাকির ইমরু, অর্থ সম্পাদক আবু বকর বিন ফারুকী, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক কাজী আজিজুল হক নাহিন, প্রকাশনা সম্পাদক আজম পাটওয়ারী, আয়োজন সম্পাদক সালাউদ্দিন হাজরা, সাহিত্য সম্পাদক সজীব খান, সংস্কৃতি সম্পাদক ইসতিয়াক সৈকত, পাঠচক্র সম্পাদক খাইরুল আলম, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. মাসুদ হোসেন, আবৃত্তি সম্পাদক সামিরা মেহনাজ নুসরাত, কার্যনির্বাহী সদস্য উজ্জ্বল হোসাইন, নূরুল ইসলাম ফরহাদ, নূরে আলম, মুহাম্মদ হানিফ, এমআরএম শোভন, মারিয়া আক্তার অনুপমা, তাসফিয়া ইসলাম, মুসলিম হোসেন ও মো. আবুল হাসেম সাহরীয়ার স্বপন।

আজীবন সদস্য মির্জা জাকির, গিয়াস উদ্দিন মিলন, সোহেল রুশদী, জসীম মেহেদী, শরীফ হোসাইন ও মো. সাইফুল ইসলাম সুমন। উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন—মইনুদ্দিন লিটন, ইলিয়াস ফারুকী, ড. নিলুফা আখতার ও কাজী নজরুল ইসলাম।

Model Hospital

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এইচএম জাকির জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্পনন্দন চাঁদপুরের লেখকদের বইয়ের পাঠক সৃষ্টিতে কাজ করেছে, আগামীতেও অন্যান্যো কার্যক্রমের পাশাপাশি এটি অব্যাহত থাকবে। শিল্পনন্দন সাহিত্য অঙ্গনে পাঠক ও লেখক সৃষ্টিসহ সৃজনশীলতার বিকাশে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন নব গঠিত কমিটির সভাপতি মোরশেদা খানম বেবী।

সভাপতি আরও জানান—শিল্পনন্দন চাঁদপুরের সাহিত্য অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। নবগঠিত কমিটি দায়িত্ব পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সাহিত্যচর্চার পরিসর আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়েছি। তরুণ লেখক–পাঠকদের সৃষ্টি-উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। খুব দ্রুতই একটি বর্ণিল অভিষেক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে তুলতে চাই। চাঁদপুরের শিল্প–সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।”

গতকাল বিকেল ৩.৩০টায় চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির নাসীরউদ্দিন মিলনায়তনে চিত্রশিল্পী মইনুদ্দিন লিটন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ও সংগঠনের প্রতিষ্টাতা এইচএম জাকিরের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কবি ও গল্পকার দেওয়ান মাসুদ রহমান।

অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ কেএম সালাউদ্দিন, চাঁদপুর সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ম. মূরে আলম পাটওয়ারী, নজরুল গবেষণা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুন গনি, সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (গবেষণা) মুহাম্মদ ফরিদ হাসান, নবগঠিত কমিটির সভাপতি মোরশেদা খানম বেবী।

অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (সাহিত্য ও প্রকাশনা) মাইনুল ইসলাম মানিক, সাহিত্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক সাদ আল আমিন প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্য শেষে বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ-এর ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত কবিতা আবৃত্তি ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা-২০২৫ এর ১০জন বিজয়ীর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেণ অতিথিবৃন্দ।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।