বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে মুসল্লির ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর

শাহরাস্তি অফিস প্রকাশিত: রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:৪৫ পিএম
শাহরাস্তিতে মুসল্লির ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর

শাহরাস্তিতে ফজরের নামাজে যাওয়ার পথে এক মুসল্লিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (৯ নভেম্বর) শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ চত্বরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে অংশ নিয়ে বক্তারা হামলাকারীদের ফাঁসির দাবি জানান এবং বলেন, এমন নৃশংস হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মামলার বাদী ও আহতের ছোট ভাই মো. রফিকুল ইসলাম, বড় ছেলে মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, এলাকাবাসীর পক্ষে কাউসার ভূঁইয়া ও রশিদা বেগম প্রমুখ।

Model Hospital

তারা বলেন, সন্ত্রাসী মিজানুর রহমান ও তার সহযোগীরা বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য মোস্তফা ভূঁইয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়েছে। আমরা হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও প্রধান আসামির ফাঁসি চাই। বক্তারা অভিযোগ করেন, মামলার দুই আসামি জামিনে এসে এখন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিচ্ছে। এতে পরিবারটি আতঙ্কে রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলার মেহের দক্ষিণ ইউনিয়নের মালোরা গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ি সংলগ্ন মসজিদ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর মোহাম্মদ ভূঁইয়ার বড় ছেলে মোস্তফা মিয়া (৬০) প্রতিদিনের মতো ফজরের নামাজে যাচ্ছিলেন।

পথিমধ্যে মুখোশধারী একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে, পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

আহতের পরিবার জানায়, মোস্তফা মিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী মিজানুর রহমানের (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। জ্ঞান ফেরার পর মোস্তফা মিয়া হামলাকারী হিসেবে মিজানুর রহমানের নাম উল্লেখ করেন। ঘটনার পর আহতের ভাই মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি মামলা (নং–১৮, তারিখ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫) দায়ের করেন। এতে মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী ফুল বানুসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাসার, পিপিএম (বার) জানান, ঘটনার পর তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের আটকের প্রক্রিয়া চলছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হামলার নেপথ্যের সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।