শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় পদ্মা সাংস্কৃতিক সংঘের আত্মপ্রকাশ

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:০১ পিএম
কচুয়ায় পদ্মা সাংস্কৃতিক সংঘের আত্মপ্রকাশ

পদ্মা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঝিলমিল সংস্কৃতিক সংঘে’র বিলুপ্তির পর সংগঠনের সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে ‘পদ্মা সাংস্কৃতিক সংঘ’।

রবিবার (৯ নভেম্বর ২০২৫) উপজেলার রহিমানগরে পদ্মা সাংস্কৃতিক সংঘের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংগঠনের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ঝিলমিল সাংস্কৃতিক সংঘের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আকবর হোসেন মিন্টুকে সভাপতি ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মোঃ মহিউদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক ও এ এইচ এম ইউনুছ মিয়াজীকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছে, সহ-সভাপতি মোঃ ইমন ও সজীব সূত্রধর, সহ-সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল হোসেন মহন ও মোহাম্মদ মাসুদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রাশেদ, প্রচার সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরু, কোষাধ্যক্ষ শুক্ররঞ্জন, মহিলা সম্পাদিকা এইচ বি কে হ্যাপি, সম্মানিত সদস্য, মোঃ রাহিম, আবু সুফিয়ান, বিদ্যুৎ চন্দ্র দাস, মোঃ হোসেন, মোহাম্মদ রাসেল, অর্পিতা রয়, মেহেদী হাসান ও মো. তারেক।

Model Hospital

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনের নবনির্বাচিত সভাপতি মোঃ আকবর হোসেন মিন্টু বলেন, কচুয়ার ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ঝিলমিল সাংস্কৃতিক সংঘটি আমাদের সকলের প্রিয় ফরহাদ চৌধুরীর ভাই এর হাত ধরে গড়ে ওঠে এবং ওনার পরামর্শ ও ওনার দিক নির্দেশনায় সংগঠনটি দীর্ঘদিন পরিচালিত হয়।

গত বছর উনার অকাল মৃত্যুতে সংগঠনের শিল্পীরা হতাশ এবং দিক হারা হয়ে পড়ে। আমরা ফরহাদ ভাইয়ের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে ঝিলমিল সাংস্কৃতিক সংগঠনটি বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু ওনার পরিবারের সম্মতি না পাওয়ায় কচুয়ার সাংস্কৃতিক কর্মীদেরকে টিকিয়ে রাখার জন্য আমরা আজ পদ্মার সাংস্কৃতিক সংঘ নামে আরেকটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ করি।

আজকের এই দিনে সাংস্কৃতিক কর্মী ফরহাদ চৌধুরীর রুহের মাগফেরাত কামনা করি। পাশাপাশি পদ্মা সাংস্কৃতিক সংঘটি যেন সফলভাবে পরিচালনা করতে পারি কচুয়াবাসী তথা চাঁদপুরবাসীর কাছে এই দোয়া কামনা করছি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’