বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

হাইমচরে মহিলা জামায়াতের বৈঠকে যুবদলের বাধা, উপজেলা জামায়াতের নিন্দা ও প্রতিবাদ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত: সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১০ পিএম
হাইমচরে মহিলা জামায়াতের বৈঠকে যুবদলের বাধা, উপজেলা জামায়াতের নিন্দা ও প্রতিবাদ

হাইমচর উপজেলার ৪নং নীলকমল ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের নিয়মিত কোরআন তালিম চলাকালে স্থানীয় যুবদল নেতা ফিরোজের নেতৃত্বে একদল যুবদল সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হাইমচর উপজেলার আমির মাওলানা আবুল হোসাইন এবং সেক্রেটারি মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বাহার গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ নভেম্বর হাইমচর উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক কমিটির পরিচিতি সভায় উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার উস্কানীমূলক বক্তব্যের জের ধরে যুবদল নেতা ফিরোজ এই হামলা করে।

৯ ই নভেম্বর (রবিবার) বিকেলে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঐ বাড়িতে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নিয়মিত সাপ্তাহিক ও মাসিক কোরআন তালিম ও প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়ে আসছে। ওই দিন তালিম চলাকালে নীলকমল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারন সম্পাদক মোঃ ফিরোজের নেতৃত্বে একদল যুবক বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করে। পর্দানশীল মা-বোনেরা তাদের বাধা দিলে, তারা অশালীন ভাষায় গালাগালি শুরু করে। একপর্যায়ে মহিলাদের প্রতিবাদের মুখে তারা স্থান ত্যাগ করে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল হোসাইন এবং সেক্রেটারি মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বাহার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বিএনপি নেতাদের এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্যে বিএনপির সাধারন নেতাকর্মীরা হাইমচরের শান্ত পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলছে।

Model Hospital

জুলাই বিপ্লব ২৪-পরবর্তী স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে এই নব্য স্বৈরাচারী ও সন্ত্রাসী হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। পর্দানশীল মা-বোনদের কোরআন তালিমে বাধা দেয়া এক ঘৃণ্য ও নিন্দনীয় কাজ।

জামায়াত নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন—“যুবদলের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

নারী সমাজের ধর্মীয় শিক্ষা ও কোরআনের আলোচনায় হামলা করে কেউ ইসলামী দাওয়াতি কার্যক্রমকে বন্ধ করতে পারবে না। এই হামলা প্রমাণ করে, নৈতিক ও আদর্শিকভাবে পরাজিত একটি গোষ্ঠী সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চাইছে নেতৃবৃন্দ হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।