শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কোনো হইচই নেই তবুও নাম তার ‘তাফালিং বাজার’

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:১৮ পিএম
কোনো হইচই নেই তবুও নাম তার ‘তাফালিং বাজার’
তেমন কোনো হইচই নেই। দোকানি ও ক্রেতারা যার যার মতো বেচাকেনায় ব্যস্ত। চায়ের দোকানে কিছু লোকের আড্ডা। সেখানে নানা কথা, নানা আলোচনা। মোটামুটি শান্ত-সৌম্য পরিবেশ। কোনো উত্তাপ-বিশৃঙ্খলা নেই। তারপরও জায়গাটির নাম ‘তাফালিং বাজার’।
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী উত্তর গ্রামে এ বাজারের অবস্থান। এর পশ্চিম দিকে উপজেলার শান্তিনগর বাজার, পূর্ব দিকে ডিঙ্গাভাঙ্গা গ্রাম, দক্ষিণে উত্তর উদ্দমদী ও উত্তরে উপাদী গ্রাম। উপজেলার ভাঙ্গারপাড়, পৈলপাড়া, বাবুরপাড়াসহ আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের মানুষ বাজারটিতে নিত্যপণ্য কিনে থাকেন।
মতলবে বিমান-রানওয়ে নেই, তবুও এলাকার নাম ‘এয়ারপোর্ট’ ভূমি কার্যালয়ের নথিতে এটি উপাদী উত্তর গ্রাম হিসেবে নথিভুক্ত থাকলেও স্থানীয় লোকজনের কাছে এটি ‘তাফালিং বাজার’ হিসেবেই পরিচিত। প্রায় ৩০ বছর ধরে মাঝারি আকারের বাজারটি এই নামেই পরিচিত।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে উপাদী উত্তর গ্রাম। গ্রামের কিছুটা মাঝখানে সড়কের দুই পাশে বাজারটির অবস্থান। মুদি, কনফেকশনারি, ফার্মেসি, হার্ডওয়্যার, চা, সেলুনসহ মোট ৩০টি দোকান আছে সেখানে। প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে সেখানে শাকসবজির হাটও বসে। ওই বাজারে গিয়ে স্থানীয় ১৫ থেকে ১৬ জনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
দোকানে বসে কথা হয় ওই গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বকাউল (৭০), দলিল লেখক মো. কাইয়ুম মিয়া, স্কুলশিক্ষক মো. রিপন, অটোরিকশাচালক মো. মোস্তাফা ও সেলুনকর্মী (নরসুন্দর) অপু চন্দ্র সূত্রধরসহ কয়েকজনের সঙ্গে। বাজারটির এমন নাম কেন জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, বাজারটি তাঁদের গ্রামের আবু হানিফ বকাউলের জায়গায় স্থাপিত। ১৯৯৫ সালে এটি স্থাপন করা হয়।
মো. সোলাইমান নামের এক ব্যক্তি সেখানে প্রথম দোকানঘর দেন। সে সময় সেখানে বসত মাছের বাজার। নানা রকমের তাজা মাছের পসরা বসত। মাছ কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে সেখানে গড়ে ওঠে একটি চক্র। অধিকাংশই ছিলেন শ্রমিকশ্রেণির। তাঁরা সেখানে দাপট দেখাতেন। স্থানীয় লোকেরা ওই দাপটকে বলতেন ‘তাফালিং’। সেই থেকে এর নাম হয় ‘তাফালিং বাজার’।
দলিল লেখক মো. কাইয়ুম মিয়া ও স্কুলশিক্ষক মো. রিপন বলেন, তাঁরা অভিধানে খোঁজ করে তাফালিং শব্দটির অর্থ পেয়েছেন। সেখানে এর কোনো খারাপ বা নেতিবাচক অর্থ পাননি। অভিধানে তাফালিং শব্দটির অর্থ ঝোড়ো বাতাস বা উত্তাপ। তবু বাজারটির এই নাম নিয়ে তাঁরা লজ্জাবোধ করেন। নামটির পরিবর্তন চান। কারণ, অনেকে মনে করেন, বাজারটিতে মারামারি, মাস্তানি, রংবাজি, চাঁদাবাজি, ধান্দা ও ফাঁপরবাজি চলে। কিন্তু বাস্তবে এর উল্টা। খুবই শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ বাজারটির।
৫ নম্বর উপাদী উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদ উল্লাহ প্রধানের ভাষ্য, তাঁর ইউনিয়নের বাজারটি এক নামে সবাই চেনেন, জানেন। নাম শুনে দূরের লোকেরা মুচকি হাসেন। কিছুটা অবাক হন, ভয়ও পান। এটি এর বিশেষত্ব। তবে বাজারের এমন নাম নিয়ে তিনি কিছুটা বিব্রত ও লজ্জিত। ৩০ বছর আগে কিছু লোকের তাফালিংয়ের কারণেই এমন নামকরণ। এখন এখানে কেউ তাফালিং ও রংবাজি করেন না।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital