বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

রেলস্টেশনে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনায় ভেসে উঠল তাকবিরের ধ্বনি

হাজীগঞ্জে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় জাতীয় মঞ্চে উঠলেন জাহিদুল ইসলাম

মেহেদি হাসান রিমেল প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:৫৬ পিএম
হাজীগঞ্জে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় জাতীয় মঞ্চে উঠলেন জাহিদুল ইসলাম

হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা–২০২৫–এর জাতীয় পর্যায়ে চাঁদপুর জেলার একমাত্র প্রতিযোগী হিসেবে স্থান পেয়েছে হাজীগঞ্জের মাদ্রাসায়ে দারুল উলুমের ছাত্র মো. জাহিদুল ইসলাম (১০)। ১০ পারায় হিফজ বিভাগে সে জেলা পর্যায়ে চতুর্থ ও চট্টগ্রাম বিভাগে পঞ্চম হওয়ায় জাতীয় পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়।

গত রাতে তাকে বরণ করতে হাজীগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকায় জমে ওঠে উৎসবের পরিবেশ।

রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ট্রেন মেঘনা প্ল্যাটফর্মে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা তাকবিরধ্বনি দিয়ে জাহিদুলকে স্বাগত জানান। ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা জাহিদুলের চোখেমুখে ছিল অভিভূত আনন্দের ঝিলিক। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক সবার হাতেই ফুল, ব্যানার আর অভিনন্দনের স্লোগান। স্টেশন যেন এক উৎসবমুখর ময়দান। ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান শিক্ষকরা। পরে তাকে ও তার বাবাকে ঘিরে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।

জাহিদুলের বাবা জাকির হোসেন পেশায় কার্পেন্টার। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের ৫ নম্বর সদর ইউনিয়নের মাতৈন মিজি বাড়িতে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে থাকেন। ছেলের সাফল্যে আপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘গরিবের ঘরে জন্ম, তবু আল্লাহর কোরআন মুখস্থ করার ইচ্ছা ছিল তার। আজ তাকে নিয়ে গর্ব করতে পারছি।’

Model Hospital

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাহিদুল ইসলাম বলেন, জাহিদুল অত্যন্ত মনোযোগী ও পরিশ্রমী। “জাহিদুল শুধু মাদ্রাসার নয়, পুরো চাঁদপুরের গর্ব। হিফজে কোরআন শেখার প্রতি তার একাগ্রতা অবিশ্বাস্য। আমরা প্রতিদিনই দেখি কীভাবে সে ঘন্টার পর ঘন্টা পরিশ্রম করে। ‘জাতীয় পর্যায়ে সে ভালো করবে—আমরা নিশ্চিত,’ বলেন তিনি।

মাদ্রাসাটির যাত্রা শুরু হয় ২০২০ সালে। ফুলছোয়া মাদ্রাসার মহতামিম মুফতি আবু সাঈদ হাফিজাহুল্লাহর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা ২৩ শতক জায়গা দান করেন। বর্তমানে এখানে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ও ১৫ জন শিক্ষক রয়েছেন।

জাতীয় পর্যায়ে অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বসিত জাহিদুল বলেন, “আমি কিছুই নই। আল্লাহ তায়ালাই আমাকে শক্তি দিয়েছেন। দোয়া করবেন, জাতীয় পর্যায়ে যেন চাঁদপুরের মুখ আরও উজ্জ্বল করতে পারি।” সে আরও বলেন “আজ এত মানুষ আমাকে যেভাবে গ্রহণ করেছে এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।” ‘চাঁদপুরের হয়ে কোরআনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া আমার জন্য মর্যাদার। দোয়া চাই, যাতে ভালো করতে পারি।’

স্টেশনে উপস্থিত এক হিফজ ছাত্র বলছিল “জাহিদুল ভাই আমাদের অনুপ্রেরণা। আমরা সবাই তার মতো হতে চাই।”

মাত্র ১০ বছর বয়সী এ হাফেজের সাফল্য যেন নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে পুরো এলাকার মানুষের মাঝে। গরিব ঘরের সন্তান হয়েও কোরআনের আলো নিজের জীবনে ধারণ করে সে প্রমাণ করেছে মেধা, চেষ্টা আর আল্লাহর রহমত থাকলে সবই সম্ভব।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital