বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

পরিবারটি পায়নি সরকারি কোন সহায়তা

চাঁদপুরের শাহমাহমুদপুরে জরাজীর্ণ ঘরে অসহায় পরিবারের ঝুকিপূর্ণ বসবাস

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:৪৭ এম
চাঁদপুরের শাহমাহমুদপুরে জরাজীর্ণ ঘরে অসহায় পরিবারের ঝুকিপূর্ণ বসবাস
ঘরের টিনের চাল মরিচা ধরে জরাজীর্ণ হয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে ভিতরে, চারপাশের বেড়া ও দরজা-জানালাগুলো ভাঙাচোরা। বৃষ্টির পানি ঠেকাতে দেওয়া হয়েছে পলিথিন ও কম্বলের ছাউনি। একই অবস্থা শৌচাগারের। এমনই জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের একটি পরিবারে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা লোকমান খলিফার ছেলে বাবু খলিফার ভাঙ্গাচোরা একই বসতঘরে খুব কষ্টে বসবাস করছেন পুরো পরিবারের সদস্যরা। মাথা গোঁজার ঠিকানা পৈত্রিক ভিটার চৌচালা এই ঘরটি। জরাজীর্ণ, ভাঙা ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘরটিতে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি। রোদে শুকিয়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে আতঙ্ক নিয়ে তারা বসবাস করেন ওই ভাঙা ঘরে।
বৃষ্টি পড়লে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যায়। বাসিন্দাদের অনুরোধ, এবারের বর্ষার আগেই ঘরগুলো মেরামত করে দিলে তারা নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবেন। তার ঘরটি দীর্ঘ অনেক বছর যাবত জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
অসহায় পরিবারটির পাশে কেউই নেই। একটি ঘরে এলোমেলো পুরনো কাপড়-চোপড়। ঘরের এককোণে লাকড়ি, আর চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাতিল সহ ঘুমানোর জন্য দুইটি চৌকি। পুরো ঘরটি বাঁশ দিয়ে ঠাই দিয়েও দুঃচিন্তায় আছে পরিবারটি। এসব নিয়েই তাদের সংসার। সামান্য অর্থ দিয়ে কখনো খেয়ে আবার কখনো না খেয়েই কোন মতে চলছে চার সদস্যের সংসার।
বাবু খলিফার স্ত্রী শান্তা বেগম বলেন, সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্ট করে জীবন চলছে। আয়-উপার্জন কম তাই ২২ বছর ধরে এই ঘরেই কোন মতে বসবাস করছি। আমার দাদী শাশুড়ীও এই ঘরে থেকে গেছেন। বিগত বছরগুলোতে অনেকেই বিভিন্ন আশ্বাস দিয়েছিলেন কিন্তু কোন সমাধান পাইনি। এমনকি সরকারি কোন সহযোগিতাও আমাদেরকে দেয়া হয়নি।
তিনি আরো বলেন, ঘরে থাকার মতো কোনো পরিবেশ নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ওপরের ছাউনি থেকে পানি পড়ে, ঘরের ভেতরের সব কিছু ভিজে যায়। স্বামীর উপার্জন কম, তাই ভালো একটা ঘর বাঁধতে পারছি না। কত মানুষ কত সুযোগ-সুবিধা পায় আমরা কি কিছুই পাবনা? যদি সরকারিভাবে অথবা বর্ণাঢ্য ব্যক্তিদের সহায়তায় একটা ঘর করে দিত তাহলে একটু শান্তিতে থাকতে পারতাম।
শান্তা বেগমের শশুর বলেন, অভাবের সংসারে এখন দিশেহারা আমার ছেলের পরিবারটি। সামান্য কিছু জায়গা থাকলেও নতুন ঘর তুলবেন সেই সামর্থ্য নেই তার। একসময় ব্যবসা বাণিজ্য ও ২টি সিএনজি ছিল। চুরি হয়ে সবকিছু হারিয়ে সে এখন নিঃস্ব হয়ে ঢাকার একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। স্বল্প এ আয়ে কোন কিছুই যেন কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। আমি আমার ছেলের পরিবারটির জন্য সকলের কাছে সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি।
ঘটনাস্থলে গিয়ে অত্র এলাকার বাসিন্দা ও শাহমাহমুদপুরের বিএনপি নেতা শাহজালাল দেওয়ান ও কামাল হাওলাদার বলেন, আমি অসহায় পরিবারটির বুকফাটা আর্তনাদ দেখেছি। তারপরও হাসিমুখে যেন সবকিছু মেনে নিচ্ছেন তারা। আমরা আমাদের নেতা চাঁদপুর-৩ আসনের মাটি ও মানুষের নেতা শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাইকে বিষয়টি অবগত করে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।