বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগ

মতলবে কলেজ ছাত্র সিফাতের মৃত্যুতে উত্তাল

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৫৯ পিএম
মতলবে কলেজ ছাত্র সিফাতের মৃত্যুতে উত্তাল

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিফাত (২১) নামের এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিহতের সহপাঠী ও স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালায় এবং প্রায় দুই ঘণ্টা জরুরি বিভাগ অবরুদ্ধ করে রাখে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হন জরুরি সেবা নিতে আসা রোগীরা। ওই সময় জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসা কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব এবং মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালেহ আহাম্মদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সিফাতকে তার মা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোশারফ হোসেন প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে ভর্তি দেন। রোগীর চাপ বেশি থাকায় হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা কার্যক্রম চলছিল।

Model Hospital

মাগরিবের আগে স্যালাইন শেষ হলে সিফাত নিজে হেঁটে বাথরুমে যান। বাথরুম থেকে বের হয়ে আসার পর হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান। স্বজনদের চিৎকার শুনে নার্স ছুটে এসে ডাক্তারকে খবর দেন। পরে ডা. রতন চন্দ্র দাস ওয়ার্ডে এসে তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান এবং ইসিজি করার পর সিফাতকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিফাতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সহপাঠী ও স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় জমায়। তারা ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগ তুলে জরুরি বিভাগের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং দায়ী চিকিৎসকের বিচার দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করে। এমনকি চিকিৎসকদের আবাসিক ভবনের দরজা ভাঙারও চেষ্টা চালায়।

এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত উৎসুক জনতা চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতা নিয়েও নানা বিরূপ মন্তব্য করেন। কেউ কেউ বলেন— হাসপাতালে ডাক্তার পাওয়া যায় না, চেয়ার দখল করে বসে থাকে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না।

মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। তবে নিহতের সহপাঠীরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের দাবি তোলে। পরে নিহতের বাবা শরীফ খানের লিখিত সম্মতির ভিত্তিতে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহত সিফাত মতলব পৌরসভার চরমুকন্দি গ্রামের শরীফ খানের একমাত্র ছেলে। তার দুই বোন রয়েছে। সে মতলব সরকারি ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম রায়হান বলেন, “আমি বর্তমানে কর্মস্থলে নেই। তবে ফোনে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জেনেছি, এখানে কোনো ভুল চিকিৎসা বা দায়িত্বে অবহেলা হয়নি।”

মতলব দক্ষিণ থানার ওসি সালেহ আহাম্মদ বলেন, “নিহতের বাবা এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তারা আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।”

এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থার মান ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital