রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে প্যাথিডিন–মরফিন ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ সভায়

নিয়ন্ত্রিত ওষুধ ব্যবহারে সতর্কতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বান : উপ-সচিব আবুল কালাম আজাদ

সাইফুল ইসলাম সিফাত প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:৪৮ পিএম
নিয়ন্ত্রিত ওষুধ ব্যবহারে সতর্কতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বান : উপ-সচিব আবুল কালাম আজাদ

চাঁদপুরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্যাথিডিন, মরফিন ও ন্যালবুফাইন ইনজেকশনের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত ও অপব্যবহার রোধে এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁদপুর কার্যালয়ের হলরুমে এ সভা হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন, অর্থ ও পরিকল্পনা অতিরিক্ত দায়িত্ব: চিকিৎসা ও পুনর্বাসন) উপ-সচিব আবুল কালাম আজাদ।

তিনি বলেন, “প্যাথিডিন, মরফিন বা ন্যালবুফাইনের মতো নিয়ন্ত্রিত ওষুধ গুলো রোগীর জীবন রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সামান্যতম অসতর্কতা বা ভুল ব্যবহারের সুযোগ নিলে এগুলো নেশাজাতীয় মাদকে পরিণত হয়ে সমাজে ভয়াবহ ক্ষতি ডেকে আনে। তাই লাইসেন্সভুক্ত প্রতিটি হাসপাতালে ড্রাগ স্টোরেজ, ব্যবহারের রেজিস্টার সংরক্ষণ এবং ডোজিং প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “কোনো হাসপাতালে এসব ইনজেকশনের অপব্যবহার প্রমাণিত হলে শুধু লাইসেন্স বাতিল নয়, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দয়া করে চিকিৎসার নামে কেউ যেন অপব্যবহারের সুযোগ না পায় এই দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে।”

Model Hospital

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চাঁদপুরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক এসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি ডাঃ মোবারক হোসেন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক জি এম শাহীন।

সভায় উপস্থিত বেসরকারি হাসপাতাল মালিকরা ন্যালবুফাইন সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা, অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ এবং হয়রানির বিষয় তুলে ধরেন। তারা বলেন,

“নিয়ন্ত্রিত ওষুধ ব্যবহারে আমরা নিয়ম মেনে চলি। কিন্তু ন্যালবুফাইন সংগ্রহ করতে গিয়ে অতিরিক্ত কাগজপত্র, ধাপে ধাপে অনুমোদন এবং বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হয়। এতে রোগীর সেবা ব্যাহত হয়। আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে চালু হলে হয়রানি কমবে এবং সেবা সহজ হবে।”

প্রধান অতিথি মোঃ আবুল কালাম আজাদ মালিকদের এসব অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

তিনি বলেন, “আপনাদের সমস্যাগুলো বাস্তব এবং সমাধানযোগ্য। আমরা প্রয়োজনে আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেব। হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি দ্রুত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আরও জানান, “স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত ওষুধ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই প্রশাসনিক বাধাগুলো দূর করে ন্যায়সঙ্গত, স্বচ্ছ ও দ্রুতসেবা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করবো।”

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক এসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা সভাপতি ডাঃ এস এম সহিদ উল্যাহ প্রধান অতিথির উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান।

তিনি বলেন, “একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জেলা পর্যায়ে এসে হাসপাতাল মালিকদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন, এমন দৃশ্য আমার পেশাজীবনে এই প্রথম দেখলাম। এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।”

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসাসেবা উন্নত করতে মাঠপর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও প্রস্তাব শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেবার মান আরও দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।

ডাঃ মোবরাক হোসেন চৌধুরী অতিথিকে ধন্যবাদ জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে ন্যালবুফাইনসহ অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত ওষুধের আবেদনপ্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং হয়রানি রোধে গৃহীত পদক্ষেপগুলো অচিরেই বাস্তবায়িত হবে।

সভায় উপস্থিত মালিকরা প্রধান অতিথির আশ্বাসকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সভায় চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলার বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী এবং পরিচালকেরা অংশ নেন।

চাঁদপুরে স্বাস্থ্যসেবা খাতে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ওষুধ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে সভা সমাপ্ত হয়।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।