শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

বিজয় দিবসে প্যাপিরাস পাঠাগারের আলোচনা সভা ও কবিতাপাঠ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:৪৭ পিএম
বিজয় দিবসে প্যাপিরাস পাঠাগারের আলোচনা সভা ও কবিতাপাঠ

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে প্যাপিরাস পাঠাগারের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও কবিতাপাঠ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে চাঁদপুর শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডস্থ চাঁদ টাওয়ারে অবস্থিত প্যাপিরাস পাঠাগার কার্যালয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পাঠাগারের উপদেষ্টা মোহাম্মদ শাহ-আলমের সভাপতিত্বে, প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণির সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, প্রতিষ্ঠানের প্রধান পরিচালক মিজানুর রহমান স্বপন, উপ-সভাপতি ফেরারী প্রিন্স, উপদেষ্টা দিলীপ ঘোষ, সদস্য নাজমুল ইসলাম, খেলাঘর চাঁদপুরের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির কাঞ্চন, ভাসানী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংঘের কর্ণধার সাইফুল ইসলাম রাজিব, সাহিত্যানুরাগী আকবর হোসেন লিটন, তুষার আহম্মেদ রিয়াজ, জুলেখা আক্তার, ইকবাল সর্দার, সোলায়মান বেপারী সুমন ও আবদুল বাতেন।

কবিতা পাঠ করেন আছিয়া আক্তার মিথিলা ও রোজিনা ইসলাম।

পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি বলেন, তিরিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন একটি রাষ্ট্র পেয়েছি। বীর যোদ্ধারা আমাদের দেশ দিয়ে গেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব এখন আমাদের।

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অস্তিত্বকে মুছে দেওয়ার অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। এদেশের মানুষ বারবার সে ষড়যন্ত্র তছনছ করে দিয়েছে। আগামীতেও কোনো ষড়যন্ত্রকারীরা আমাদের স্বাধীনতা ছিনতাই করে নিতে পারবে না।

সভাপ্রধান মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিভীষিকাময় দিনগুলো আমি নিজ চোখে দেখেছি। চোখের সামনে অসংখ্য মৃত দেহ ভেসে যেতে দেখেছি। সে সব স্মৃতি মনে পড়লে এখনও শরীর কাঁটা দিয়ে ওঠে। ১৬ ডিসেম্বরের মহান বিজয়ের মধ্য দিয়ে আমরা ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পেয়েছি।

অনুষ্ঠানে বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশ নেন বক্তারা।

অনেকে আক্ষেপ করে বলেছে, আগে দেখতাম বিজয় দিবসে আমাদের অঙ্গীকারের পাদদেশ সারাদিন ফুলে ফুলে একাকার হয়ে থাকতো। এই দিনটিতে স্থানটি ছিলো অত্যন্ত সংরক্ষিত এলাকা। অথচ আজ এর বিপরীত চিত্র চোখে পড়লো। খুব অশনিসংকেত এগুলো।

সব শেষে চা-চক্রের আয়োজন করা হয়।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।