রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় ফুল সজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে ইমামের রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:২৯ পিএম
কচুয়ায় ফুল সজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে ইমামের রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা

কচুয়ায় কচুয়ায় ফুলে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে ইমামের রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা দিলেন এলাকাবাসী।

‎কচুয়া উপজেলার নোয়াগাঁও উত্তর পাড়া জামে মসজিদে দীর্ঘ ১৮ বছর ইমামতি করার পর ফুল সজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে মসজিদের ইমামকে রাজকীয় বিদায় দিয়েছেন এলাকাবাসী।

শুক্রবার নোয়াগাঁও মিয়াজী বাড়ি ইমাম হোসাইনী যুব ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ মুজিবুল হক আল-ক্বাদেরীকে জুমার নামাজের পর ঘোড়ার গাড়িতে করে তাঁর গ্ৰামের বাড়ি মনোরপুরে পৌঁছে দেন এলাকাবাসী। এর পাশাপাশি তাকে নগদ অর্থ ও উপহার সামগ্রী দেয় মসজিদ পরিচালনা কমিটি।

৬৫ বছর বয়সী ইমাম মাওলানা মজিবুল হক আল-ক্বাদেরী একই উপজেলার মনোরপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ২০০৭ সাল থেকে টানা ১৮ বছর ধরে নোয়াগাঁও উত্তর পাড়া জামে মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এরপর বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তার সম্মানে এ ব্যতিক্রমধর্মী বিদায়ের আয়োজন করা হয়। ইমামকে বিদায় জানাতে শুক্রবার সকাল থেকেই মসজিদ প্রাঙ্গণে আসতে থাকেন স্থানীয়রা। ইমামের বিদায়ে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে ইমামকে ফুল সজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল শোডাউনের মাধ্যমে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।

‎স্থানীয়রা জানান, ইমাম সারাজীবন সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকেছেন। মানুষের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার চলাফেরা ও ব্যহার সবাইকে মুগ্ধ করেছে। তার দেওয়া দ্বীনি শিক্ষায় অনেকেই সঠিক দিশা পেয়েছেন। তাই তার সম্মান স্বরূপ এমন বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করেছেন তারা। পরিশেষে তার অবসর জীবনের সুস্বাস্থ্যে ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন স্থানীয়রা।

Model Hospital

‎নোয়াগাঁও উত্তর পাড়া জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল বলেন, তিনি শুধু ইমামতি করেননি। তিনি আমাদের জীবনের নানা দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। সমাজের মানুষকে দ্বীনের পথে আনতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তার দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মান জানাতে আমরা এ আয়োজন করেছি।

‎আবেগজড়িত কণ্ঠে ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ মুজিবুল হক আল-ক্বাদেরী বলেন, জীবনের বড় একটি অংশ এই মসজিদ আর গ্রামের মানুষের সঙ্গে কেটেছে। আমি সারা জীবন দিনের খেদমতে নিয়োজিত ছিলাম। মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও গ্রামবাসী আমাকে এতটা ভালোবাসেন এবং মন থেকে সম্মান করেন, এটি ভেবে খুব আবেগপ্রবণ হয়ে যাচ্ছি। আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। সেই সাথে সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি।

‎এসময় কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউল করিম,মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন মজুমদার, কোষাধক্ষ্য কবির হোসেন, সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা, কবির মজুমদার, সদস্য হাজী আব্দুল বাসার, মুকবুল হোসেন,মহিন মিয়াজী, মোঃ পিন্টু মিয়াসহ এলাকার মুসল্লিগণ উপস্থিত ছিলেন।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।