শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় ফসলি মাঠে সরকারি খাল দখল করায় বিপাকে কৃষকরা

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৫ পিএম
কচুয়ায় ফসলি মাঠে সরকারি খাল দখল করায় বিপাকে কৃষকরা

কচুয়ায় নূরপুর গ্রামে কৃষি জমি মাঠের সরকারি খাল দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

‎কচুয়া উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামে প্রায় ২শ’ বিঘা জমিতে পানির নিচে ডুবে থাকে উৎপাদন কৃষি ফসল। সরকারি খাল দখল করে সমতল জমি ও বাড়ি নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে।

পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ঐ গ্রামের জমিগুলো পানিতে তলে থাকার কারণে সঠিক সময়ে কৃষকেরা ফসল উৎপাদন করতে পারছে না। সরকারি খাল দখল মুক্ত ও পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গতকাল রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন স্থানীয় কৃষক আব্দুস ছাত্তার।
‎

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, বিএস চুড়ান্ত ১৪৯ নং নুরপুর মৌজার ০১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত ২৮০ নং দাগের ভূমি শ্রেণি হালট হিসেবে রেকর্ড ও নক্সায় লিপি রয়েছে। উক্ত ২৮০ নং দাগের হালট ভূমি দিয়ে নুরপুর মৌজার উত্তর-পূর্ব এলাকা এবং তুলাগাঁও মৌজার দক্ষিণ-পূর্ব এলাকার বর্ষার মৌসুমের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র হালট ভূমি। ওই হালটের পার্শ্ববর্তী ভূমির মালিক অবৈধভাবে দখল করে নিজেদের ভূমির সাথে অন্তর্ভুক্ত করে ভোগদখল করায় বর্ষার মৌসুমে জলাবদ্ধতার ফলে ফসলাদি ও গবাদি পশু পালনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। ফসলি মাঠের অবৈধ খাল দখল হতে উদ্ধার করে খাল বা নালা কেটে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করে জলাবদ্ধতার হাত হতে রক্ষাক্রমে এলাকার ফসলাদি সঠিকভাবে চাষাবাদ করাসহ গবাদি পশু পালনের সংশ্লিষ্ট সুদৃষ্টি কামনা করছি।
‎

স্থানীয় কৃষকরা জানান,এই ফসলি মাঠের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশারীরা। তারা অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন, যেখানে সেখানে যে যার মতো বাড়ি-ঘর নির্মাণ আর এলাকার বিভিন্ন ব্রিজ ও কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে এলাকার কৃষি জমি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

Model Hospital

এছাড়াও বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলেই গ্রামের ভিতরে পানি ঢুকে দীর্ঘ সময় ধরে পানির নিচে তলিয়ে থাকে ঐসব পাড়ার রাস্তাগুলো। এর ফলে কৃষকদের উৎপাদিত ধান, আলু ও অন্যান্য কৃষি পণ্য হাট-বাজারে নিয়ে যেতে নানা সমস্যায় পড়তে হয় কৃষকদের। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
‎

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ইউএনও মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান রাসেল বলেন, লিখিত অভিযোগে বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি আমার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকে সরজমিনে গিয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।